আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক অভিযানে ১৮ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৩ সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়।
পাকিস্তান টেলিভিশনের প্রতিবেদনে তাদের ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের বোঝাতে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে।
বিষয়টি ডনের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বেলুচিস্তানের মাস্তুং জেলায় পৃথক অভিযানে আরও পাঁচ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় রেডিও জানিয়েছে, সেখানে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় এবং নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। মাস্তুংয়ে অভিযান শেষে অবশিষ্ট সন্ত্রাসীদের সন্ধানে তল্লাশি ও ক্লিয়ারেন্স অভিযানও চালানো হচ্ছে।
পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী হামলার প্রবণতা বেড়েছে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিকস) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৫৪টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, যেখানে জুলাইয়ে হামলার সংখ্যা ছিল ৩৬টি। অর্থাৎ এক মাসে হামলা বেড়েছে ৫০ শতাংশ।
একই সময়ে বেলুচিস্তানে হামলার সংখ্যা ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৯টিতে পৌঁছায়। পিকসের হিসাবে, ওই মাসে বেলুচিস্তান ছিল পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসকবলিত প্রদেশ।
এর আগে সেপ্টেম্বর ও চলতি অক্টোবরেও খাইবার পাখতুনখাওয়ার উত্তর ওয়াজিরিস্তান, মির আলী, বারা ও ডেরা ইসমাইল খানসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী নিহত হয়।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর ডেরা ইসমাইল খানের দারাজিন্দা এলাকায় একটি আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর কোহাটের পুরোনো পুলিশ লাইনসে বড় ধরনের হামলায় ২৩ জন নিহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর রাতভর ক্লিয়ারেন্স অভিযানে আট সন্ত্রাসী নিহত হয়।
বেলুচিস্তানেও গত কয়েক সপ্তাহে চাগাই, শাবান, আওরান, জিয়ারত ক্রস, পিশিন ও মাস্তুংসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান হয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা এসব অভিযানের মাধ্যমে দেশটিতে সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনের চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: ডন, জিও নিউজ