আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮ বার
গত তিন বছরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৮ হাজার ৯শ ছাড়িয়েছে। আহতের সংখ্যাও প্রায় ৩০ হাজার ৬শ জনে পৌঁছেছে।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৮ হাজার ৯২০ জন নিহত ও ৩০ হাজার ৫৯৬ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে গত ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিহত ৪৩৯৮ জন ও আহত ১২৩৪৯ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের ওপর ১৭৯টি ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।
এই তারিখ লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার স্বাক্ষর বহন করে।
ওইদিন উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর একটি রকেট হামলার জবাবে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় ১৩০ জন নিহত হয়েছিল।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে রয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ২২ হাজার মানুষ যৌথ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বসবাস করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত জুন মাসে দুটি ‘শান্তি’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি সহিংসতার বৃদ্ধির মধ্যেই এ পরিসংখ্যানগুলো সামনে এলো।
ইসরায়েল গত মার্চ মাস থেকে দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে, যখন তারা একটি ‘বাফার’ জোন তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছিল। গত ২৬ জুনের ফ্রেমওয়ার্ক বা রূপরেখা চুক্তিটি হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের শর্তের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম এই রূপরেখা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে সেটিকে ‘বাতিল ও অকার্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন এবং প্রথমে ইসরায়েলকে তাদের দখলদারিত্ব বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। চুক্তিটিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো আহ্বান জানানো হয়নি।
গত শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের শহর কাফার রেমানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন। কৌশলগত আলী আল-তাহের সেতুর নিচের সুড়ঙ্গগুলো থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)ও গত শুক্রবার জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান ও আর্টিলারির গোলাবর্ষণ টায়ার এবং নাবাতেহ জেলার সাতটি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার ভোরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ লেবাননের জাওতার আল-শারকিয়াহতে বোমা হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা