ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮ বার
দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি বলেন, জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
জনমিতিক লভ্যাংশের (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। আর এক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান ভূমিকা রয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।
এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় ‘জনসংখ্যা বোনাস, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং আইসিপিডি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
স্পিকার বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে যেসব সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবেই জাতীয় সংসদ কাজ করে যাচ্ছে।
দেশের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিরসন, কিশোরী শিক্ষা ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যা নিরসনে সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকার জনগণের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ কাজে লাগাতে হবে। এসময় তিনি নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে শুধু সংখ্যাগত দিক দিয়ে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের জনসংখ্যাকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করার মাধ্যমে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।
এসডিজি বাস্তবায়নে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এর জন্য সংসদীয় কার্যক্রমে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, জনগণের সমস্যা সমাধানে সঠিক নীতি ও পরিকল্পনাও গ্রহণ করতে হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, একটি দেশে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে তার বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। দক্ষ, শিক্ষিত ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীই হলো টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি।
জাতিসংঘের জনসংখ্যা উন্নয়ন বিষয়ক তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথেরিন ব্রিন ক্যামকং বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনসংখ্যার সামাজিক সুরক্ষায় জনবান্ধব নীতি প্রণয়ন করে উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দারুণভাবে সহযোগিতা করছে।
এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
কর্মশালায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, হুইপ, সংসদ-সদস্য, ইউএনএফপিএ ও এসপিসিপিডি প্রকল্পের প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।