ঢাকা, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

আমি কাতারে বোমা হামলা করেছি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার


আমি কাতারে বোমা হামলা করেছি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কাতারে বোমা হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে নিজের দম্ভ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি নিজ দেশের ভেতরে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, গাজায় পাঠানো তহবিল ত্রাণ ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।

 

ইসরায়েলের ‘আই২৪নিউজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এ কথা বলেন। শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাক্ষাৎকারটি শেয়ার করেন।

সেখানে তিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যায় কাতার কোনো নীতি নির্ধারণ করে দেয়নি, বরং কাতার একটি ‘শত্রুতাপূর্ণ’ রাষ্ট্র।

 

নেতানিয়াহু অহংকারের সুরে বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি, যুদ্ধের সময় আমি সেখানে বোমা হামলাও করেছি এবং তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছি, আর তারাও আমার ওপর আক্রমণ করেছে।

 

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরায়েলের চালানো সেই বিমান হামলার এক বছর পূর্তির মাত্র কয়েকদিন আগে এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় একটি বৈঠকে ওই বোমা হামলায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন।

 

 

মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে কাতার। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ২০১২ সাল থেকে তারা হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় নিজ দেশে পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আসছে।

দোহায় চালানো ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কাতার এটিকে ‘সব আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির নগ্ন লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এই হামলাকে একটি ‘ভীতুসুলভ’ আক্রমণ বলে মন্তব্য করেন।

ইরান ও পাকিস্তানসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশও এ হামলার নিন্দা জানায়। এমনকি সংহতি প্রকাশ করতে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা অল্প সময়ের মধ্যে কাতার সফর করেন।

যুক্তসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ‘মারাত্মক লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন।

ওই মাসের শেষের দিকে হোয়াইট হাউজে এক বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানির কাছে ফোন করে এ হামলার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন।

‘আই২৪নিউজ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু কাতারের মাধ্যমে গাজায় পাঠানো লাখ লাখ ডলারের তহবিল হস্তান্তরের বিষয়টিও জোরালোভাবে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল এই অর্থ হস্তান্তরে সহায়তা করেছিল এবং এই তহবিলগুলো মানবিক উদ্দেশে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। এছাড়া ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেটের সুপারিশেই এ অর্থ পাঠানো হয়েছিল।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব অর্থ গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের মাত্র ২ শতাংশ।’

নেতানিয়াহুর কোনো কোনো সমালোচক অভিযোগ করেছেন, ২০২৩ সালের ৭ মে ইসরায়েলে হামাসের হামলার প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করার জন্য এই তহবিল ব্যবহার হয়েছিল। আর এই হামলার ফলেই গাজায় বর্তমান এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

কাতার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা হামাসকে অর্থায়ন করছে– এমন যেকোনো দাবি ভিত্তিহীন। সেইসঙ্গে তারা ত্রাণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারির বিষয়টির কথাও তুলে ধরেছে।

শেখ মোহাম্মদ গত বছরের দোহা ফোরামে বলেন, ‘আজকে যখন তারা (ইসরায়েল) দাবি করছে যে এটি হামাসে কাতারের অর্থায়ন, তখন এর কোনো ভিত্তি নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সব সাহায্য… গাজায় গেছে, সাধারণ মানুষের কাছে গেছে এবং এটি একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে যে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অবগত রয়েছে।’

২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলে এই প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলিরা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে নেতানিয়াহু এসব মন্তব্য করলেন।

অক্টোবরের নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গাজা যুদ্ধ পরিচালনা, অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ– এই বিষয়গুলো নির্বাচনী প্রচারণার মূল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর এসব কারণেই নিজ দেশের ভেতরে নেতানিয়াহুর ওপর সরকারের ব্যর্থতার চাপ দিন দিন বাড়ছে।

বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন নিজেদের পক্ষে টানার জন্য নেতানিয়াহু বারবার অন্যান্য দেশের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে চলেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা


   আরও সংবাদ