ঢাকা, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

২০০ কোটি পাউন্ড অর্থায়ন করবে ইউকেইএফ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৪ বার


২০০ কোটি পাউন্ড অর্থায়ন করবে ইউকেইএফ

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ দিতে চায় যুক্তরাজ্যের রপ্তানি ঋণ সংস্থা ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ)। তবে এই অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের পণ্য, প্রযুক্তি বা সেবা ব্যবহারের সুযোগ থাকতে হবে।

যোগ্য বাংলাদেশি ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠান এসব প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে।

 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে ইউকেইএফের একটি প্রতিনিধিদল।

বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের অর্থায়ন ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

 

এ ছাড়া বাংলাদেশে নতুন অর্থায়নের ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে এরই মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইউকেইএফ।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণে যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি, দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে চলছে এসব আলোচনা।

 

ইউকেইএফের বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়ন করা সম্ভব।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। পরিবহন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর, উৎপাদনশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অবকাঠামোর মতো বড় প্রকল্পে এই অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।

 

অর্থায়নের সম্ভাবনাময় খাত 
বাংলাদেশে ইউকেইএফের অর্থায়নের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন ও লজিস্টিকস, বিমানবন্দর ও বিমান চলাচল, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামোকে।

 

 

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ বলছে, দেশের অবকাঠামোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং দ্রুত সম্প্রসারিত বেসরকারি খাত যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবকাঠামো চাহিদা ও সম্প্রসারিত বেসরকারি খাত যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি যুক্তরাজ্যের দক্ষতা ও অর্থায়ন কাজে লাগানো যায় এমন বাস্তবসম্মত ও সম্ভাবনাময় প্রকল্প চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। এসব প্রকল্প চিহ্নিত করতে আইসিসি বাংলাদেশ ইউকেইএফ, যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড এবং ব্রিটিশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের পণ্য থাকলেই মিলবে সুবিধা
বৈঠকে ইউকেইএফের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন অর্থায়ন সুবিধা সম্পর্কে আইসিসি বাংলাদেশের সদস্যদের অবহিত করেন। বিশেষ করে যেসব প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, সেসব প্রকল্পে কীভাবে ইউকেইএফের অর্থায়ন পাওয়া যেতে পারে, তা তুলে ধরা হয়।

ইউকেইএফ মূলত গ্যারান্টি, ঋণ ও বিমাসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে। সংস্থাটি ৬০টির বেশি স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়নের সুবিধা দিতে পারে। ফলে বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

 

 

ইউকেইএফের অর্থায়ন ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে- বায়ার ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি, স্ট্যান্ডার্ড বায়ার লোন গ্যারান্টি, ডাইরেক্ট লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ও আর্লি প্রজেক্ট সার্ভিসেস গ্যারান্টি।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা
দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাজ্যের ট্রেড কাউন্সিলর মার্ক বিরেল বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সফরের মাধ্যমে সরকার ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের কোম্পানি, দক্ষতা ও অর্থায়ন বাংলাদেশের উদ্ভাবন, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সে সুযোগগুলো খুঁজে দেখা হচ্ছে।

ইউকেইএফের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মার্ক বিরেল, ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ইউকেইএফের কান্ট্রি হেড সন্দীপ কুদতারকার এবং দক্ষিণ এশিয়ার হেড অব ট্রেড পলিসি রোহিনী আগরওয়াল।

প্রতিনিধিদলটি ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করছে। সফরকালে সরকারের প্রতিনিধি, ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে পারস্পরিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করছেন তারা।


   আরও সংবাদ