ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৪০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪৮ বার
ঢাকা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিচার ব্যবস্থার সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, এআইয়ের প্রভাব ও অপব্যবহার থেকে বিচার ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে বিচারকদের এআই সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব প্রজ্ঞা ও বিচারিক বিচক্ষণতা প্রয়োগ করতে হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ‘বাংলাদেশ এআই গভর্ন্যান্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর পাঁচ দিনব্যাপী নির্বাহী পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনে সহযোগিতা করেছে লিগালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ (বাংলাদেশে বৈধ শিক্ষা) এবং সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই (এসজেএআই) নামের দুটি সংস্থা।
আইনমন্ত্রী বলেন, এআই ব্যবহার করে কারও কণ্ঠস্বর নকল, ছবি পরিবর্তন বা সুপারইম্পোজ করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যকে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও এআই প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলে এআইয়ের ঝুঁকি ও অপব্যবহার মোকাবিলায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব এআই যুগে প্রবেশ করেছে।
তবে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এখনো যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি। আগামী দিনে এআই কীভাবে মানুষকে নির্দেশনা দেবে, প্রভাবিত করবে এবং কখনো সঠিক আবার কখনো বিভ্রান্তিকর পথে পরিচালিত করতে পারে, সেটি চিন্তার বিষয়।
বিচার ব্যবস্থায় এআইয়ের প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো বিচারককে এআইয়ের মাধ্যমে প্রভাবিত বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে তার প্রভাব বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর পড়তে পারে। তাই বিচারকদের সবার আগে এআই সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় কোনো তথ্য বা উপাদান এআই-নির্ভর কি না, সেটিও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, আইন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং বিচারিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনের গতিপথও নির্ধারিত হয়। বিভিন্ন সময়ে বিচারিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনের নতুন নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। এআইও বিচার ব্যবস্থার সামনে তেমন একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। যথাযথ আইন ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের নিজস্ব প্রজ্ঞা ও বিচারিক বিচক্ষণতা প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি বলেন, এআই নিষিদ্ধ করার কোনো চিন্তা সরকারের নেই। বরং এআইয়ের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর অপব্যবহার যাতে না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।
এআই নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন ও নীতিমালাকে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গঠনমূলক সমালোচনা ও মতামতের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন সম্ভব।
সরকার কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে যে সিদ্ধান্তকে অধিকতর যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য মনে হবে, সরকার সে পথেই এগিয়ে যেতে চায়।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আইনমন্ত্রী এআই বিষয়ে কার্যকর আইন প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তুত করে দ্রুত সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একরামুল হক।