ঢাকা, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

নিরপরাধ ব্যক্তি যেন মিথ্যা মামলার শিকার না হন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৪ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


নিরপরাধ ব্যক্তি যেন মিথ্যা মামলার শিকার না হন

কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নবাগত কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। 

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেক মামলায় ৩০০ জন বা তারও অধিক মানুষকে আসামি করা হয়েছে।

এসব মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেককে জড়ানো হয়েছে, তদন্তে দেখা গেছে যারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাই নিরপরাধ কাউকে যেন মিথ্যা বা হয়রানির উদ্দেশে মামলায় না জড়ানো হয়।

পাশাপাশি থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব করে জিডি ও মামলা সংক্রান্ত সেবায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কথা জানান তিনি। 

 

সোমবার (৩ আগস্ট) এসএমপি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন।

 

 

তিনি বলেন, বিগত দিনের ইতিবাচক কার্যক্রমগুলো চলমান থাকবে। রাতের টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনসম্পৃক্ত পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

এসএমপি কমিশনার অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। 

সভা শেষে তিনি বলেন, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী ও সব শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য সিলেট মহানগর গড়ে তোলা সম্ভব। 

এসএমপি কমিশনার সিলেট মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিকবান্ধব পুলিশি সেবা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 

তিনি বলেন, সিলেট একটি পবিত্র নগরী। আগে এখানে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকায় এখানের মানুষ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে। এখানকার মানুষ শান্তিপ্রিয় ও পরোপকারী। 

সভার শুরুতে উপস্থিত সাংবাদিকরা নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন। পরে সিলেট মহানগরের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। 

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, সিলেট মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যানজট নিরসন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, ছিনতাই-চুরি ও সাইবার অপরাধ দমন, টহল ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। 

সেই সঙ্গে আবাসিক হোটেলে অবৈধ ব্যবসা, অনলাইন জুয়া ও হানিট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, থানাগুলোকে জনবান্ধব করা, জিডি-মামলায় হয়রানি বন্ধ, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে গতি আনা এবং রাতের টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম বাড়ানোর দাবি জানান। 

এছাড়া মাদক চোরাচালান রোধ, মাদকের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা এবং নম্বরপ্লেটবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসএমপি কমিশনার বলেন, সিলেট মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে পুলিশের চলমান কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হবে। মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চুরি, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। 

তিনি আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। 

এসএমপির কর্মতৎপরতা তুলে ধরে মতবিনিময় সভায় তিনি গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অদ্যবদী ছিনতাইকারী ধরা হয়েছে ২২১ জন, মাদককারবারি ৫৯১ জন, মাদকসেবী ৮৪৫ জন, মাদক মামলা হয়েছে ৪৭৫টি, কিশোর গ্যাং ধরা হয়েছে ১৩ জন, হকার প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১০৬টি, মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ২৫১ জন। আমাদের এই অভিযান থেমে যাবে না, অভিযান আরো জোরদার করা হবে। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) (ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ এনামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন) জনাব মু. মাসুদ রানা, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ ও অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিবি) মো. আকতার হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম) মো. রিয়াজুল কবির, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক, অতিরিক্ত দায়িত্বে সদর ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায়, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আফজাল হোসেনসহ সিলেট জেলা প্রেস ক্লাব, সিলেট প্রেস ক্লাব, ইমজা, অনলাইন প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


   আরও সংবাদ