স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:১৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার
গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধের তাণ্ডবে জীবন বিপর্যস্ত হওয়া ২৮ জন ফিলিস্তিনি শিশু চলতি সপ্তাহে উত্তর-পূর্ব স্পেনের কাতালান পিরেনিস অঞ্চলে কাটিয়ে গেল এক স্মরণীয় সময়। বিমান হামলার সাইরেন আর বাস্তুচ্যুতির বিভীষিকা ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলার ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইয়ুথ ক্যাম্পে এসে ফুটবল ড্রিল ও সুইমিং পুলের আনন্দে মেতে ওঠে তারা।
উত্তর-পূর্ব স্পেনের এই শহরে আয়োজিত ‘পেপ সামার ক্যাম্প’-এর ষষ্ঠ সংস্করণে আরও ৭০০ জনেরও বেশি শিশুর সঙ্গে যোগ দেয় এই ফিলিস্তিনি শিশুরা। আয়োজকদের মতে, ভয়াবহ পরিস্থিতিতে থাকা এই শিশুদের অন্তত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও একটি সাধারণ শৈশব ও আনন্দঘন মুহূর্ত উপহার দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
শিশুদের আলাদা কোনো দলে না রেখে মূল ট্রেনিং স্কোয়াডের সঙ্গেই যুক্ত করা হয়। ভাষা ও যোগাযোগের সুবিধার্থে দোভাষীদের সাহায্য নেওয়া হয়, যাতে তারা ক্যাম্পের দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারে।
ক্যাম্পের সমন্বয়ক টনি আগুইলার স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘সেগ্রে’-কে বলেন, ‘এখানে এসে তারা আর দশটা সাধারণ শিশুর মতোই হয়ে গেছে। প্রতিদিনের যেসব সমস্যার মুখোমুখি তারা হয়, সেগুলো ভুলে অন্য শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা উপভোগ করছে।
কারণ ফুটবল একটি সর্বজনীন খেলা। বলের পেছনে আমরা সবাই সমান।’
বার্সেলোনায় বসবাসকারী এক তরুণ ফিলিস্তিনির প্রস্তাবের পর ‘গার্দিওলা সালা ফাউন্ডেশন’ এই বিশেষ উদ্যোগটি গ্রহণ করে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন পেপ গার্দিওলা। শিশুদের ইচ্ছা ছিল প্রিয় এই ফুটবল ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দেখা করার। সপ্তাহজুড়ে ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় গার্দিওলা নিজে উপস্থিত থেকে শিশুদের সঙ্গে বিশেষ সময় কাটান।
আগুইলার আরও যোগ করেন, ‘ফুটবল বিশ্ব ও প্রচারমাধ্যমের স্তরে পেপ এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাই সেই শিশুদের কাছে এটি অনেক বড় একটি বিষয় ছিল।’
শুধু ফুটবল অনুশীলনেই এই সামার ক্যাম্প সীমাবদ্ধ ছিল না। এতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু সম্পর্কিত ওয়ার্কশপ ও আলোচনার ব্যবস্থা ছিল, যেখানে যুবকর্মী ও অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য রাখা হয়। গার্দিওলা সালা ফাউন্ডেশনের পরিচালক লরা গেরা জানান, এই সেশনগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের বাইরের বিশ্ব ও অন্যান্য মানুষের জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে জানানো।
আয়োজকরা গাজার শিশুদের এই অংশগ্রহণকে এবারের সফলতম মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশা ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পেপ গার্দিওলা ফিলিস্তিন ইস্যুতে সোচ্চার থেকেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বার্সেলোনায় এক দাতব্য অনুষ্ঠানেও তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি শিশুদের ‘একাকী ও পরিত্যক্ত’ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে, এবং তাঁদের কষ্টে সাধারণ মানুষের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়।