স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার
ফিফার শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক অভিযোগে কাঠগড়ায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং তাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে অনাকাঙ্ক্ষিত নানা ঘটনার জন্য তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আটলান্টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা 'লাস মালভিনাস সোনে আর্জেন্টিনা' (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা একটি রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করেন। ফিফা পরিষ্কার জানিয়েছে, ক্রীড়া মঞ্চকে কোনো ধরনের অ-ক্রীড়াসুলভ বা রাজনৈতিক প্রদর্শনী হিসেবে ব্যবহার করা তাদের আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তবে কেবল ব্যানারের মাঝেই এই তদন্ত সীমাবদ্ধ নয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার একাধিক ম্যাচে বর্ণবাদী স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, দেরিতে খেলা শুরু করা, নিরাপত্তা প্রটোকল ভঙ্গ করা, গ্যালারি থেকে সমর্থকদের বোতল বা বস্তু নিক্ষেপ এবং বিতর্কিত বার্তার বিষয়েও খতিয়ে দেখছে ফিফা।
শৃঙ্খলা বিধির ১৩, ১৪, ১৫ এবং ১৭ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে তাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটি।
ঘটনার চরম অবনতি ঘটে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচ শেষে, যেখানে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।
খেলা শেষের পরপরই মাঠে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
এই হট্টগোলের ঘটনায় ইতোমধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে:
লিয়ান্দ্রো পারেদেস: উদযাপনের সময় স্পেনের গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার কারণে বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডারের বিরুদ্ধে ৩টি আক্রমণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
নাহুয়েল মলিনা: আতলেতিকো মাদ্রিদের এই রাইট-ব্যাকের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে ২টি আক্রমণের অভিযোগ।
থিয়াগো আলমাদা, রবার্তো আয়ালা ও গাভি: অসদাচরণের দায়ে আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা, আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ রবার্তো আয়ালা এবং স্পেনের গাভি; তিনজনকেই ১টি করে অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, ফাইনাল শেষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস কর্তৃক গাভির মুখে আঘাত করার একটি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লেও সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত শুরু করেনি ফিফা।
আর্জেন্টিনার সাবেক ডিফেন্ডার ও বর্তমান কোচিং স্টাফ অলতার সামুয়েলসহ দুই দলের বেশ কয়েকজন সদস্য এই মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সব মিলিয়ে, আর্জেন্টিনার একাধিক ম্যাচের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং ফাইনাল শেষের বিশৃঙ্খলার কারণে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বড় অঙ্কের জরিমানা ও কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।