ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

প্রতিযোগিতা টিকতে পোশাক কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১১ বার


প্রতিযোগিতা টিকতে পোশাক কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

দেশের পোশাক খাতকে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে শ্রমিকদের দক্ষতা লেভেল ৩ এবং ৪-এ উন্নীত করা অত্যাবশ্যকীয় বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজার এখন অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ।

এ বাজারে টিকতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও পোশাকের বৈচিত্র্যময়তা বাড়ানো জরুরি। এজন্য প্রয়োজন শ্রমিকদের পরবর্তী লেভেলের দক্ষতা অর্জন।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে 'বিজিএমইএ-ইবিটি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা ও সনদপত্র বিতরণ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, এনডিসি।

 

মো. দাউদ মিয়া বলেন, ‘জাতীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএ ও অ্যাসেট প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগ পোশাক খাতের উৎপাদনশীলতা ও শ্রমশক্তি বৃদ্ধিতে চমৎকার কাজ করছে।

২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের নতুন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘শিল্প ও একাডেমিয়ার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়তে এসব প্রকল্পে বিজিএমইএ-কে প্রয়োজনীয় মতামত দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। দেশের বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী পোশাক খাতকে আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখতে কর্মীদের দক্ষতা লেভেল ৩ ও ৪-এ নিয়ে যাওয়া জরুরি।’

সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে টিকতে পোশাক খাতকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করতে হবে। কারখানায় কর্মমুখী দক্ষতা বাড়াতে 'এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং' (ইবিটি) মডেলটি অত্যন্ত সফল প্রমাণিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদ শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে নয়, বরং দক্ষ কর্মী গড়ে তুলে পণ্যের মূল্য সংযোজনে বিশ্বাসী। উপযুক্ত নীতি সহায়তা পেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘অ্যাসেট’ (Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation - ASSET) প্রকল্পের আওতায় বিজিএমইএ পোশাক শিল্পে 'এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং' পরিচালনা করে আসছে। শিল্প-নেতৃত্বাধীন চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ৩টি সাইকেলে মোট ১৯৩টি ব্যাচের মাধ্যমে ৪,৬৩২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২য় ও ৩য় সাইকেলের ৯৭টি ব্যাচের মোট ২,৩২৮ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে ৪র্থ সাইকেলের ৯৬টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) সামসুর রহমান খান, অ্যাসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মীর জাহিদ হাসান এবং বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) প্রো-উপাচার্য প্রফেসর ড. প্রকৌশলী আইয়ুব নবী খান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর স্কিল ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া।

এ সময় বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলাসহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


   আরও সংবাদ