স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নাটকীয় এক লড়াই শেষে সেমিফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
কানসাস সিটিতে জয় দিয়ে শেষ চারে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার টিকিটও নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা।
এই ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১১-এ নিয়ে গেছেন লিওনেল মেসি।
এর মাধ্যমে দিয়েগো ম্যারাডোনাকে (৮) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার আসনে এককভাবে উঠে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড।
তবে প্রথম বড় আঘাত হানে আর্জেন্টিনাই। দশম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলেক্সিস মাক আলিস্তার।
গোল হজমের পর আক্রমণের ধার বাড়ায় সুইসরা। ৩২ মিনিটে ব্রিল এমবোলোকে বক্সের মধ্যে দারুণ ট্যাকলে থামান এমিলিয়ানো মার্তিনেস। এরপর ৪৩ মিনিটে ফ্রেইলারের ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে গেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আর্জেন্টিনা। ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। ৫১ মিনিটে এমবোলোর পাস থেকে দান এনদোয়ের শট শেষ মুহূর্তে ঠেকিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস, যদিও পরে অফসাইডের পতাকা ওঠে। ৬৫ মিনিটে এনদোয়ের হেডও দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
তবে ৬৭ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। রদ্রিগেজের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে সমতায় ফেরান দান এনদোয়ে।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭২ মিনিটে। ভিএআর পর্যালোচনার পর অভিনয়ের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এমবোলো। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে সুইজারল্যান্ড।
একজন বেশি নিয়ে শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে মেসির চিপ শট রুখে দেন গ্রেগর কোবেল। যোগ করা সময়ে মাক আলিস্তারের হেড বার ঘেঁষে বাইরে যায়, যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির বাঁকানো শট পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। নবম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের অ্যাক্রোবেটিক প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন কোবেল। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়।
অতিরিক্ত সময়ের শুরু থেকেই সুইস রক্ষণে অবরোধ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। ৯৩ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার শট দারুণভাবে বাঁচান কোবেল। ৯৫ মিনিটে আলমাদার আরেকটি জোরালো প্রচেষ্টা সাইড নেটে লাগে। ১০৪ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক প্রতিহত করে সুইস দেয়াল। প্রথম অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
শেষ ১৫ মিনিটে জয়ের মরিয়া চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। অবশেষে ১১২ মিনিটে জাদুকরী মুহূর্ত এনে দেন হুলিয়ান আলভারেস। বাঁ দিক থেকে ভেতরে কেটে এসে অসাধারণ বাঁকানো শটে কোবেলকে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড।
গোল হজমের পর সব শক্তি নিয়ে আক্রমণে ওঠে সুইজারল্যান্ড। তবে লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দৃঢ় রক্ষণে বারবার ব্যর্থ হয় তারা।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ম্যাচের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন লাউতারো মার্তিনেস। মেসির নিখুঁত পাস ধরে গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন বদলি হয়ে নামা এই স্ট্রাইকার।
নাটকীয় এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। রাতের আরেক ম্যাচে নরওয়েকে হারানে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা।