ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
টানা কয়েক ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতে মিরপুরের অধিকাংশ এলাকায় তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন জলাবদ্ধতা। বেগম রোকেয়া সরণীর মূল সড়ক থেকে শুরু করে ভেতরের অলিগলি সবখানেই এখন থৈ থৈ পানি।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকেই শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে মিরপুর রোডের শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, সেনপাড়া, মিরপুর ১০, ১১, ১৩ ও ১৪ নং সেকশনের অধিকাংশ সড়ক সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যায়।
কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও কোমর সমান পানি ডিঙিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অফিসগামী যাত্রী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীরা।
অনেককে জুতো হাতে নিয়ে, প্যান্ট গুটিয়ে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে দিয়েই গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে। গণপরিবহন সংকটের পাশাপাশি রিকশা ও সিএনজি চালকরাও হাঁকছেন দ্বিগুণ-ত্রিগুণ ভাড়া।
ওপরে আধুনিক মেট্রোরেল সচল থাকলেও নিচে নামতেই যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম বাস্তবতার মুখে। শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর ১০ মেট্রো স্টেশনের নিচে নামার সিঁড়ি ও লিফটের চারপাশ পানিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে ট্রেন থেকে নেমে স্টেশনের বাইরে পা রাখাই দায় হয়ে পড়েছে। অনেক যাত্রীকেই দীর্ঘক্ষণ স্টেশনের ভেতরে বা ফুটওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
সড়কে পানি জমে থাকায় গর্ত বা ম্যানহোল দেখতে না পেয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে রিকশা ও মোটরসাইকেল। পানির কারণে মাঝরাস্তায় বহু সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে শুরু করে আগারগাঁও পর্যন্ত পুরো সড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট, যার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের অন্য এলাকাগুলোতেও।
শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়ার ভেতরের শাখা সড়কগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। নিচু এলাকার বহু বাসাবাড়ির নিচতলা এবং দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়েছে।
ভোগান্তির শিকার মিরপুরবাসীর দাবি, মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর রাস্তার ড্রেনেজ ব্যবস্থার যে স্থায়ী সমাধান করার কথা ছিল, তা এখনো অধরাই রয়ে গেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে, গতকালও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করেন এবং জরুরিভাবে পানি নিষ্কাশনে কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা দেন।