আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন, ২০২৬ ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫ বার
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি ও পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই সফরের খবর সামনে আসে।
এর আগে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাঁর সফর স্থগিত করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল।
কারণ, তেহরানের অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধ বন্ধ করা।
শুক্রবার ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ কিছুটা সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর পরপরই সুইজারল্যান্ডে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সফরের তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন উইটকফ।
এদিকে যুদ্ধবিরতির আগে লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হন। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও কয়েকটি স্থানে হামলার অভিযোগ ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে সংঘাত অব্যাহত থাকায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স আলোচনায় অংশ নিতে অনাগ্রহী ছিলেন এবং এ কারণেই তাঁর সফর স্থগিত করা হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। তিনি দেশটির নেতৃত্বকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানান। এক সাংবাদিকের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ট্রাম্প ইসরায়েলকে সংযত আচরণ এবং কৌশলগতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দিনভর গোলাগুলির পর স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহায়তায় এ সমঝোতা সম্ভব হয়েছে।
হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। সেই সমঝোতার ধারাবাহিকতায় চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকের কথা ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের একটি অংশ শুরু থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স