ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

লাল-সবুজ ডেরায় ‘ওয়াহিদ সহোদর’

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ২৬ মে, ২০২৬ ২১:৪২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৩ বার


লাল-সবুজ ডেরায় ‘ওয়াহিদ সহোদর’

 

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের তারকা হামজা চৌধুরীকে দিয়ে দেশের ফুটবলে প্রবাসী খেলোয়াড়দের যে নতুন জোয়ার শুরু হয়েছিল, এবার তাতে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও দুটি বড় নাম। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে মাঠ মাতাতে সম্মতি দিয়েছেন ইংল্যান্ডপ্রবাসী দুই ভাই ফারহান আলী ওয়াহিদ এবং রায়ান আলী ওয়াহিদ।

 

এর মধ্যে বড় ভাই ফারহান খেলছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পরিচিত ক্লাব ফুলহামের বয়সভিত্তিক দলে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ করিম সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় এই দুই প্রবাসী প্রতিভাকে জাতীয় দলে ভেড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

প্রবাসী ফুটবলারদের দেশের জার্সিতে খেলানো বাফুফের বর্তমান সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলের শেষ দিক থেকেই ওয়াহিদ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে ফেডারেশন।

 

 

কানাডায় ফিফা ও এএফসি কংগ্রেস চলাকালীন ফারহানের এজেন্ট অ্যাডামের সঙ্গে প্রথম দফা আলোচনা করেন ফাহাদ করিম।

পরবর্তীতে দেশে ফিরে খেলোয়াড়দের বাবা আব্দুল ওয়াহিদের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের একটি বিস্তারিত জুম মিটিং করে বাফুফে।

 

 

ওই বৈঠকেই পরিবারের পক্ষ থেকে দুই ভাইকে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।

১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার ফারহানকে ঘিরে দেশের ফুটবল অঙ্গনে এরই মধ্যে প্রত্যাশা বাড়তে শুরু করেছে। মাত্র ১২ বছর বয়সে বিখ্যাত চেলসি একাডেমি থেকে ফুলহামে পাড়ি জমানো এই তরুণ বর্তমানে ফুলহামের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে ‘প্রিমিয়ার লিগ টু’-তে খেলছেন। ক্লাবের সঙ্গে তার পেশাদার চুক্তিও রয়েছে।

 

গত মৌসুমে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের জার্সিতে ২০ ম্যাচে ৭টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। গত নভেম্বরে লিগের ‘মাসসেরা’ খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি ‘মৌসুমসেরা’র মনোনয়ন তালিকাতেও রয়েছে তার নাম। দারুণ গতি, অসাধারণ ড্রিবলিং এবং গোল করার সহজাত ক্ষমতার কারণে তাকে প্রিমিয়ার লিগের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিমও মনে করেন, ফারহান বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একটি বড় ‘মাইলফলক’ হতে যাচ্ছেন।

 

বড় ভাইয়ের মতো ছোট ভাই রায়ানও দারুণ প্রতিভাবান। রাইট-ফুটেড এই তরুণ মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। বর্তমানে ওকিং এফসিতে থাকা রায়ান এর আগে ইংল্যান্ডের গ্রাসরুট লিগে অ্যাশফোর্ড এফসির শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। বাফুফে তাকে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ বা অনূর্ধ্ব-২০ দলের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে বিবেচনা করছে।

 

বাফুফের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের ছুটির পরপরই পুরোদমে এই দুই ভাইয়ের পাসপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হবে। ফেডারেশনের আশা, জুলাই মাসের মধ্যেই পাসপোর্টসংক্রান্ত যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়ে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে যে টুর্নামেন্ট বা ম্যাচ হবে, সেখানেই ফারহানকে জাতীয় দলের স্কোয়াডে দেখা যেতে পারে। তবে বাফুফের মূল লক্ষ্য হলো, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ফারহানের সার্ভিস পুরোপুরি কাজে লাগানো।


   আরও সংবাদ