ঢাকা, রবিবার, ১০ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ফ্যাসিবাদ যেন পুলিশকে আর ব্যবহার করতে না পারে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬ ১৪:২১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৩ বার


ফ্যাসিবাদ যেন পুলিশকে আর ব্যবহার করতে না পারে

বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়, সেজন্য সবাইকে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একইসঙ্গে ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে রাজারবাগে সব পুলিশ সদস্যকে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল ছিল, তা নিয়ে গবেষণারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

 

রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগে হানাদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর বর্বর হামলায় শহীদ পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, শুধু স্মরণের মধ্য দিয়েই আপনাদের-আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেসব শহীদ পুলিশ ভাইরা আত্মত্যাগ করেছিলেন, যেকোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।

 

স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে পুলিশের রক্তে রঞ্জিত মাটিতে দাঁড়িয়ে সবাইকে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়, আজ আমরা সেই নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’, অপরদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ– এরপর স্বাধীনতার লড়াই থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পিছিয়ে থাকার আর কোনো সুযোগ ছিল না।

 

এসময় তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে যখন টান টান উত্তেজনা, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় যখন প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য জড়ো করা হচ্ছিল– এমন পরিস্থিতিতে সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী যুক্তি বা কৌশল কাজ করেছিল, তা যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করছেন তাদের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে বলে আমি মনে করি।

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার। বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার, নির্যাতিত, নিপীড়িত, অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শান্তি ও নিরাপত্তা চায়।

দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ভূমিকার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন– এটিই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের, বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।

এর আগে বর্ণিল প্যারেড উপভোগ করে তিনি বলেন, আমার কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়নি, বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

বক্তব্য শেষে প্যারেডে অংশগ্রহণকারী পুলিশ ও র‍্যাবের সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।


   আরও সংবাদ