ঢাকা, রবিবার, ১০ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

মার্কিন-ইরান যুদ্ধ বন্ধের কোনো অগ্রগতি নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬ ১৪:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১২ বার


মার্কিন-ইরান যুদ্ধ বন্ধের কোনো অগ্রগতি নেই

কয়েক দিনের বিক্ষিপ্ত উত্তেজনার পর হরমুজ প্রণালী এলাকা এখন আপেক্ষিকভাবে শান্ত। তবে যুদ্ধ বন্ধে বিশেষ কোনো অগ্রগতি নেই।

 

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ এবং নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিক্রিয়ার আশা করছে।

তবে একদিনের বেশি সময় পার হলেও তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়া অন্যান্য বিতর্কিত বিষয়ে আলোচনার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা।

 

শনিবার মিয়ামিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কো রুবিও।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, তারা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

তবে বিবৃতিতে সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

 

একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: কাতারি এলএনজি ট্যাঙ্কার
এলএসজি শিপিং ডেটা অনুযায়ী, শনিবার একটি কাতারি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী হয়ে পাকিস্তানের দিকে যাত্রা করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থা তৈরির লক্ষ্যে ইরান এই চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই হবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো কাতারি এলএনজি জাহাজের প্রথম যাতায়াত।

আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের প্রাক্কালে এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। এই সংঘাত জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধবিরতি ও সাম্প্রতিক সংঘর্ষ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানি জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই জলপথ দিয়ে প্রবাহিত হতো।

ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার প্রণালীতে ইরানি বাহিনী ও মার্কিন জাহাজের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দুটি ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো একটি ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান জাহাজ দুটির ধোঁয়া নির্গমন পথে (স্মোকস্ট্যাক) আঘাত করলে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে হিমশিম খাচ্ছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠকের পর রুবিও প্রশ্ন তোলেন যে, কেন মিত্ররা জলপথটি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটনকে সমর্থন দিচ্ছে না।

অন্যদিকে, জার্মানি ও ব্রিটেন মধ্যস্থতা ও জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

এদিকে, কূটনীতির পাশাপাশি ইরানকে চাপে রাখতে নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ১০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর মধ্যে চীন ও হংকংয়ের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ইরানকে 'শাহেদ' ড্রোন তৈরির কাঁচামাল সরবরাহে সহায়তা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, যতবারই কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে, যুক্তরাষ্ট্র ততোবারই বেপরোয়া সামরিক অভিযান বেছে নেয়।

ইরানের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সিআইএ’র মূল্যায়ন
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, মার্কিন ব্লকেডের কারণে ইরান আগামী চার মাস তেমন কোনো গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে না। তবে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই দাবিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন।

সূত্র: রয়টার্স


   আরও সংবাদ