ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬ ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
ঢাকা: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।
তিনি বলেন, এর অর্থ কোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদ নয়; বরং বৈশ্বিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেই বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট: এ ফরেন পলিসি আউটলুক ফর এ নিউ বাংলাদেশ’ শীর্ষক নীতি আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)।
হুমায়ুন কবীর বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ওই সময়ের পর দেশ নতুন পথে অগ্রসর হতে শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তনশীল। একক শক্তির আধিপত্য কমছে এবং বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও কৌশলগত, পেশাদার ও নমনীয় হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, অতীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনেক সময় কৌশলগত না হয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ছিল। গত দুই দশকে দেশ একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ফলে কূটনৈতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন পররাষ্ট্রনীতির তিনটি মূল দিক হবে-কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক নীতি নয়, বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পরিবর্তিত বাস্তবতায় নমনীয়তা।
পররাষ্ট্রনীতি স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি হতে হবে জাতীয় স্বার্থনির্ভর, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার।
তিনি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির পাঁচটি প্রধান স্তম্ভও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে-সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক কূটনীতি, বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং জনগণকেন্দ্রিক কূটনীতি।
জনগণকেন্দ্রিক কূটনীতির অংশ হিসেবে প্রবাসী শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।