ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

একই সময়ে দুই মহাদেশে খেলবে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ৫ মে, ২০২৬ ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


একই সময়ে দুই মহাদেশে খেলবে বাংলাদেশ

আগামী জুনের ফিফা উইন্ডোতে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। একই সময়ে দুই মহাদেশে দুটি আলাদা টুর্নামেন্ট ও ম্যাচে অংশ নেবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।

এক দল খেলবে এশিয়ার মালদ্বীপে চার জাতির টুর্নামেন্টে, অন্য দলটির গন্তব্য ইউরোপের দেশ সান মারিনো। দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইউরোপের মাটিতে খেলার এই সফরে দলের বড় তারকা হামজা চৌধুরীসহ প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

 

প্রাথমিকভাবে বাফুফের পরিকল্পনা ছিল মালদ্বীপের চার জাতির টুর্নামেন্টে (যেখানে স্বাগতিক মালদ্বীপ ছাড়াও থাকছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান) অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠানো হবে এবং মূল জাতীয় দল যাবে সান মারিনোতে। তবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে ফেডারেশন।

এর পেছনে ঘরোয়া লিগের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং মালদ্বীপের অনুরোধের বিষয়টি তুলে ধরেন ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য শাহাদাত হোসেন।

 

সোমবার ফোর্টিস গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত জাতীয় দল কমিটির সভা শেষে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটা মালদ্বীপের একটি ন্যাশনাল টিম ইস্যু, তারা বারবার অনুরোধ করেছে যেন আমরা জাতীয় দল পাঠাই।

আমাদের লিগ এখন অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, পয়েন্ট টেবিলে দলগুলোর ব্যবধান খুব কম। আমাদের পর্যাপ্ত খেলোয়াড় রয়েছে, তাই আমরা অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে অগ্রাধিকার না দিয়ে জাতীয় দলকে দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

 

দুটি দল গঠনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে সতর্ক বাফুফে। দুই দলই যেন সমান শক্তির হয়, সে লক্ষ্যেই খেলোয়াড় বণ্টন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কিছু খেলোয়াড় যুক্ত করে দুটি সমমানের দল তৈরি করা হবে। একটি দল যাবে সান মারিনোতে, অন্যটি মালদ্বীপে।’

একই সময়ে দুটি টুর্নামেন্ট থাকায় বড় তারকারা কোথায় খেলবেন, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হামজা চৌধুরীর গন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বড় তারকারা ইউরোপে যাবে। তবে আমাদের কিছু বিদেশি খেলোয়াড় মালদ্বীপেও খেলবে।’ যদিও চূড়ান্ত খেলোয়াড় বণ্টন নতুন কোচের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।

ইউরোপের মাটিতে খেলার সুযোগ বাংলাদেশের জন্য বড় একটি অর্জন হিসেবে দেখছে বাফুফে। সান মারিনো সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর সুযোগ এনে দিতে পারে বলে মনে করছে তারা।

এ বিষয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমরা অনেক দিন পর ইউরোপে খেলতে যাচ্ছি। এখন অনেক ইউরোপিয়ান দেশই বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমরা আশাবাদী, ভালো ফল করতে পারলে ভবিষ্যতে আরও আমন্ত্রণ পাব।’

পর্যাপ্ত খেলোয়াড় থাকার কারণে দল গঠনে কোনো ঘাটতি থাকবে না বলেও বিশ্বাস বাফুফে কর্মকর্তাদের। তাদের আশা এশিয়া ও ইউরোপ, দুই জায়গাতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।


   আরও সংবাদ