ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২ বার
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের’ (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোড শুরু করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জ্বালানি (ফুয়েল) লোডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
এই ফুয়েল লোড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রকল্প সাইটে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশনের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ।
রাশিয়ার প্রযুক্তি, আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় দুই ইউনিট বিশিষ্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনা রিয়্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বা চুল্লিপাত্র, যেখানে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোড বা সংযোজন করা হবে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ইউরেনিয়াম-২৩৫ নামের মৌলিক পদার্থ। খনি থেকে সংগ্রহ করে ছোট আকৃতিতে একত্রিত করা কয়েকশ পেলেটকে একত্রিত করে একটি ধাতব টিউবে ঢোকানো হয়, যাকে বলা হয় ইউরেনিয়াম রড। অনেকগুলো ফুয়েল রড একত্রিত করে তৈরি করা হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। একটি অ্যাসেম্বলির দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার মিটার। আরএনপিপির রিয়্যাক্টর-১ এ ১৬৩টি অ্যাসেম্বলি সংযোজন করা হবে। এসব ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম-২৩৫ লোড করতে সাধারণত সময় লাগে ২১ থেকে ৩০ দিন। এরপর রডগুলো সঠিক অবস্থানে স্থাপন করে নিউট্রন হিটের মাধ্যমে ফিশন বিক্রিয়া শুরু করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতে থাকে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ফুয়েল লোডের পর ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী জুলাইয়ের শেষে বা আগস্টে বাণিজ্যিকভাবে ৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে পুরো মাত্রায় উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে রূপপুর প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হলে কেন্দ্রটি পরিচালনা করবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ (এনপিসিবিএল)। চুক্তি অনুযায়ী জনবল কাঠামো ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে রাশিয়া। শুরুতে রাশিয়ান অপারেটরদের নেতৃত্বে কেন্দ্রটি চালু করা হবে, যেখানে বাংলাদেশিরা সহযোগী হিসেবে থাকবেন। ধীরে ধীরে নেতৃত্ব বাংলাদেশিদের হাতে আসবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০১৩ সালে সমীক্ষা চুক্তি এবং ২০১৫ সালে নির্মাণ চুক্তি হয়।
প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা)। এতে থ্রি প্লাস প্রজন্মের ভিভিইআর-১২শ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২শ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ চলমান রয়েছে। সব মিলিয়ে পুরো প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।