ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

মামলা সংখ্যা কমাবে সরকারের লিগ্যাল এইড সার্ভিস

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৫৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৭ বার


মামলা সংখ্যা কমাবে সরকারের লিগ্যাল এইড সার্ভিস

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশে ৪০ লাখের ওপরে মামলা চলমান আছে। আমরা একদিকে মামলার জট যেমন কমাতে চাই, আরেকদিকে মামলার ফ্লো কমাতে চাই।

এই দুটি বিষয় সামনে রেখে আমরা লিগ্যাল এইড কর্মসূচি দিয়েছি। লিগ্যাল এইড কর্মসূচির মধ্যে মিডিয়েশনের (মধ্যস্থতা) ব্যবস্থা করেছি।

কেউ চাইলে ছোটখাটো মামলাগুলোর ক্ষেত্রে যদি কেউ মনে করেন মামলা চলা অবস্থায় এসে মিডিয়েশন করতে পারবেন। এতে তার পথ সহজতর হবে।

আরেকদিকে, আমরা মামলা করার আগে যদি সমাধান করে দিতে পারি, তাহলে নতুন মামলার সংখ্যাও কমবে।

 

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কাকরাইল বস্তির এরশাদ মাঠে আয়োজিত ‘ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘আইন ও বিচার বিভাগ’ এবং ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

 

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, গরিব অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় আমরা লিগ্যাল এইড পৌঁছে দেব। ১৯৯৪ সালে এই কর্মসূচি শুরু করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনিই সর্বপ্রথম বাংলাদেশের লিগ্যাল এইড সিস্টেম চালু করেছিলেন। তার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করেছেন। এই মহান সংসদের চলমান সেশনে আমরা লিগ্যাল এইড আইনটি পাস করেছি। এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে সরকার মানুষকে লিগ্যাল এইড সেবা পৌঁছে দিতে একটি পৃথক অধিদপ্তর চালু করেছে। মানুষের অধিকার আদায়ের অন্যতম একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই অধিদপ্তর কাজ করবে।

তিনি বলেন, এই লিগ্যাল এইড কর্মসূচির মধ্যে আমরা কিছু নতুনত্ব এনেছি। এর মধ্যে রয়েছে– লিগ্যাল এইড দেওয়ার আগে একটি মিডিয়েশন করা, যাতে আদালতে যাওয়ার আগেই কোনো বিষয় মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। যেমন– যৌতুকের মামলা, দেনমোহর ভরণপোষণের মামলা, চেক ডিজঅনারের মামলা– এ ধরনের ছোট ছোট মামলাগুলো বছরের পর বছর আদালতে ঘোরে। দেখা যায় যে আদালতে একদিকে যেমন ‘লিটিগেন্ট পিপল (মামলা-মোকদ্দমার সঙ্গে জড়িত মানুষ)’ হয়রানির শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে আদালতের মামলার জট বাড়ছে। সেই কারণে আমরা লিগ্যাল এইড কর্মসূচিকে সামনে এনে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে বলতে চাই, আদালতে যাওয়ার আগে আপনারা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করেন। যেটা আইনসংগতভাবেই হবে। লিগ্যাল এইড যে সমাধান দেবে, সেটা আদালতের রায়ের সমতুল্য হবে। ডিক্রির সমতুল্য হবে বলে আইনে বলা হচ্ছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যারা বিগত ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন, স্বজন হারিয়েছেন, মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়েছেন তাদেরকেও আমরা এই লিগ্যাল এইডের অন্তর্ভুক্ত করেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের পরিবারদের, যারা পঙ্গু হয়েছেন, যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন, যারা মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের সবাইকে আমরা এই কর্মসূচির মধ্যে এনেছি। যেসব নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, হয়রানির শিকার হচ্ছেন কিন্তু আদালতে যেতে পারছেন না, পুলিশের কাছে যেতে পারছেন না অর্থনৈতিক কারণে, তারাও আছেন। আমরা লিগ্যাল এইড সুবিধাটাকে বাংলাদেশের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চাই এই কারণে যে, এটা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অন্যতম একটি অংশ।

আয়োজকরা জানান, আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত চারটি ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে বস্তির বিভিন্ন জায়গায় এ সেবা দেওয়া হবে। প্রত্যেকটি গাড়িতে একজন করে আইনজীবী থাকবেন। তারা মানুষকে আইনি জটিলতায় পড়লে কোথায় যেতে হবে, এ বিষয়ে পরামর্শ দেবেন।


   আরও সংবাদ