ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

সর্বোচ্চ ধৈর্য-সংযম দেখানোর নির্দেশনা

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার


সর্বোচ্চ ধৈর্য-সংযম দেখানোর নির্দেশনা

নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ধৈর্য-সংযম দেখানোর নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সভায় বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে নেতাকর্মীরা মত দিয়েছেন, গুপ্ত রাজনীতি চলতে থাকলে সংকট নিরসন হবে না। 

 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রায় ২৬টি ইউনিটের শীর্ষ পাঁচ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক শেষে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এ কথা জানান।

 

 

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির জানান, ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ ২৬টি ইউনিটের সঙ্গে আমরা জরুরি সাংগঠনিক সভা করেছি এবং গতকাল আমরা চট্টগ্রামের সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদলের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা করে চলমান যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এ বিষয়ে আগামীতে কীভাবে ক্যাম্পাসগুলোতে আমরা রাজনীতি পরিচালনা করব, এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। 

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে একটি গ্রাফিতি লেখাকে কেন্দ্র করে শিবির যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে, বিশেষ করে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের ওপর তারা হামলা করেছে এবং তার রেশ ধরে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল এবং শিক্ষার্থীদের ওপর তারা হামলা করেছে।

গতকাল পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের ওপর তারা হামলা করেছে। বিএনপির পার্টি অফিস ভাঙচুর করেছে।

 

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গতকাল এআই প্রযুক্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যাকে ঘিরে যে কুরুচিপূর্ণ একটি ছবি শিবিরের এক নেতার দ্বারা পোস্ট করা হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে শাহবাগে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সামগ্রিক সব বিষয় নিয়ে আমরা আলাপ আলোচনা করেছি। শাহবাগের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, আমরা এ জরুরি সাংগঠনিক সভা থেকে সাংবাদিক সমিতির কাছে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি। 

পরে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে প্রায় দুই বছর আমরা যে সম্প্রীতিমূলক ক্যাম্পাস ছাত্র রাজনীতি চালু রেখেছিলাম, সেগুলোতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। তার নেপথ্যে যে কারণই থেকে থাকুক, সেটি আমরা অনুধাবন করে ঢাকার এবং ঢাকার বাইরের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, কলেজের ইউনিট এবং মহানগর ইউনিটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডেকে আজ একটি সাংগঠনিক জরুরি মতবিনিময় সভা করেছি। 

তিনি বলেন, আমরা সেখানে সবার মত নিয়েছি, সেখানে সবাই বলেছেন, ক্যাম্পাসগুলোতে একটি গুপ্ত সংগঠন
চালু রাখা হয়েছে। এ রাজনীতির চলমান থাকলে সংকট নিরসন হবে না বলে সবাই মত দিয়েছে। 

দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে অব্যাহত প্রপাগান্ডা; আমরা অকপটে স্বীকার করবো যে আমাদেরও বেশ কিছু নেতাকর্মী এর বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত যে আচরণ, সেগুলো করেনি। আমরা তাদের সতর্ক করেছি যে যতই প্রপাগান্ডা হোক না কেন, কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। তো আমরা এটিই আজ নির্দেশনা দিয়েছি। কোনোভাবেই কোনো ক্যাম্পাস যেন অস্থিতিশীল না হয় সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন করব।

তিনি বলেন, সভা শেষে আমি ছাত্রশিবিরকে আহ্বান জানাচ্ছি, দয়া করে আপনারা গুপ্ত রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসুন। ক্যাম্পাসে আপনাদের নেতাকর্মীরা যদি মব করতে চায়, প্রকাশ্যে মব করতে হবে। তারা যদি দেয়াল লেখে, আপনার ছাত্রশিবির হিসেবে দেয়াল লিখবেন। আপনারা যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের গঠনমূলক সমালোচনা হোক কিংবা অহেতুক সমালোচনা হোক করবেন, সেটাও আপনি আপনার সদস্য অনুযায়ী করুন। কিন্তু এগুলো না করে আপনারা গুপ্ত অবস্থায় যা ইচ্ছে তাই বলে যাবেন, যেভাবে ইচ্ছে ঐক্যবদ্ধভাবে মব করবেন, তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রপাগান্ডা চালিয়ে একটি অস্থিতিশীল ক্যাম্পাস তৈরি করবেন, দয়া করে এ প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে আসুন। 

তিনি বলনে, এতে আপনাদের কোনো লাভ হবে না। ভবিষ্যতে এ কারণে আপনাদের অনেক বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা দুই বছর ধরে প্রমাণ দিয়ে চলেছি, কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে বার বার বিভ্রান্তিকর কথা ছড়াচ্ছে যে ছাত্রদল গণরুম করবে, গেস্টরুম নেবে, এ ধরনের প্রোপাগান্ডা থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। 


   আরও সংবাদ