ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

৪০ দিন পর আল-আকসা মসজিদ খুলল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:২৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার


৪০ দিন পর আল-আকসা মসজিদ খুলল

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ বৃহস্পতিবার পুনরায় খুলে দিয়েছে। ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নজিরবিহীনভাবে মসজিদটি বন্ধ ছিল।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরুর পর এই প্রথম সেখানে ফজরের নামাজ আদায় করেন ৩০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি মুসল্লি।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মসজিদের ফটক খুলে দেওয়া হলে বিপুল সংখ্যক মানুষ এর আঙিনায় প্রবেশ করছে এবং দীর্ঘদিন পর ফিরে আসতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করছে।

 

আরও কিছু ভিডিওতে স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মুসল্লিদের জন্য প্রস্তুতির কাজ করতে দেখা গেছে।

ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান আল-আকসা বন্ধ করে দিয়েছিল ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল।

এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়েও বন্ধ ছিল আল-আকসা।

 

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বললেও ফিলিস্তিনিরা এই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

একই সময়ে অন্যত্র ইহুদিদের বড় ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

 

অনেকে অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল এই স্থানের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে, যার মধ্যে প্রবেশ, সময়সূচি ও অনুমোদিত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত।

পুরোনো জেরুজালেম শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ বহু দশক ধরে চালু থাকা ‘স্ট্যাটাস কো’ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় মসজিদটিতে প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মুসলিম কর্তৃপক্ষের হাতে থাকার কথা।

তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার লঙ্ঘন করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের সম্মতি ছাড়াই উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের প্রবেশ ও প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া অন্তর্ভুক্ত।

পূর্ব জেরুজালেমসহ এই এলাকা দখলে রাখা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হয়, যেখানে বলা হয়—দখলদার শক্তির ওই ভূখণ্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব নেই এবং সেখানে স্থায়ী পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

ইসরায়েলিদের প্রবেশ সময় বাড়ানো হয়েছে
মসজিদ পুনরায় খোলার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের প্রায় প্রতিদিনের অনুপ্রবেশ আবার শুরু করেছে এবং এর সময়ও বাড়িয়েছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার পরপরই বহু ইসরায়েলি সেখানে প্রবেশ করে। প্রবেশকারীদের অনেককে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে প্রার্থনা ও নাচতে দেখা গেছে।

যুদ্ধের আগে এই ধরনের প্রবেশ সপ্তাহের কর্মদিবসে দুই ধাপে হতো সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

এই প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৩ সালে দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদার সময় এবং ২০০৮ সালে এটি আরও কাঠামোবদ্ধ হয়। তখন সীমিত সংখ্যক দলকে সকালে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো।

এরপর থেকে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি বছর কয়েক হাজার মানুষ এতে অংশ নেয় এবং সময়ও ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে দ্বিতীয় শিফট যুক্ত করা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের আগে অনুমোদিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এখন এই অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা পর্যন্ত মোট সাড়ে ছয় ঘণ্টা।

জেরুজালেম গভর্নরেট এই সময় বৃদ্ধি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা ‘স্ট্যাটাস কো’কে আরও দুর্বল করে।

তাদের ভাষায়, ‘এই সময় বৃদ্ধি আল-আকসা মসজিদে নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, বিশেষ করে ৪০ দিন পর পুনরায় খোলার পর।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


   আরও সংবাদ