ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩২ বার
ঢাকা: দীর্ঘ ৯ দিন পর সারাদেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে বিদ্যমান রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহার করেছে সরকার।
রোববার (১৫ মার্চ) থেকে দেশের সব পেট্রল পাম্পে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রি আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।
এর আগে, শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তানে এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মূলত আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে; এমন গুঞ্জন ও আতঙ্কে গত ৬ মার্চ থেকে তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অতিরিক্ত তেল কেনা ঠেকাতে ওই দিন থেকেই সরবরাহে সীমা বেধে দেয় সরকার।
সেসময়, রেশনিং চলাকালীন মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক ২ লিটার, এসইউভি ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০-২৫ লিটার এবং দূরপাল্লার ভারী যানবাহনের জন্য সর্বোচ্চ ২২০ লিটার পর্যন্ত তেল বিক্রির নিয়ম কার্যকর ছিল।
তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
ডিজেল বর্তমানে মজুদ আছে প্রায় ২ লাখ টন। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আরও ৬০ হাজার টন সংরক্ষিত রয়েছে। দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা মাত্র ১২ হাজার টন।
পাশাপাশি পেট্রল ও অকটেন মজুদ আছে ১৬ হাজার টন, যেখানে দৈনিক চাহিদা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টন।
বিপিসি কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, এই মজুদে বর্তমান পরিস্থিতি অনায়াসেই সামাল দেওয়া সম্ভব।
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় যে সাময়িক বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছিল, তা আপাতত থাকছে না। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শুরুর আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে তেল কেনা যাবে। ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষ যেন ভোগান্তিতে না পড়ে, সেটিই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে আজ সকাল থেকেই দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে কোনো প্রকার সীমা ছাড়াই তেল বিক্রি শুরু হয়েছে, যা পরিবহন মালিক ও সাধারণ চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।