ঢাকা, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

দক্ষতা উন্নয়ন ও কালিনারি খাতে নারীর সম্ভাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৮ মার্চ, ২০২৬ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার


দক্ষতা উন্নয়ন ও কালিনারি খাতে নারীর সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়— নারী শুধু পরিবার নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। বর্তমান সময়ে উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি হলো দক্ষতা। তাই নারীর ক্ষমতায়নে দক্ষতা প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম।

দক্ষতা প্রশিক্ষণ বলতে এমন প্রশিক্ষণকে বোঝায়, যা একজন মানুষকে নির্দিষ্ট কোনো কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করার সক্ষমতা দেয়।

আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু সাধারণ শিক্ষা যথেষ্ট নয়; ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। দক্ষতা প্রশিক্ষণ একজনকে আত্মনির্ভরশীল করে এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়।

 

কালিনারি বা রন্ধনশিল্প খাত নারীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। নারীরা স্বভাবতই যত্নশীল, ধৈর্যশীল ও সৃজনশীল— যা রান্না ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

উন্নত বিশ্বে অনেক নারী আন্তর্জাতিক মানের শেফ, রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার এবং খাদ্য উদ্যোক্তা হিসেবে সফলভাবে কাজ করছেন। তারা শুধু রান্নার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন; খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং নতুন খাবারের উদ্ভাবনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

 

তবে বাংলাদেশে এই খাতে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম। এর পেছনে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রশিক্ষণের সীমিত সুযোগ এবং পেশাগত সুযোগের অভাব বড় কারণ হিসেবে দেখা যায়।

কিন্তু সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে নারীরা খুব দ্রুত এই খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

 

বর্তমান সময়ে আরেকটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে— দক্ষতা বিমুখতা। অনেক তরুণ-তরুণী দীর্ঘমেয়াদি পরিশ্রমের পরিবর্তে দ্রুত সাফল্য পেতে চান। সামাজিক মাধ্যমে রিলস বা টিকটকের মাধ্যমে অনেকেই তাত্ক্ষণিক জনপ্রিয়তার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই ধরনের সাফল্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থায়ী হয় না।

প্রকৃত ও দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য আসে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে।

 

পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বিশেষ করে কালিনারি, হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও ফুড প্রোডাকশন বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। নারীদেরও এই খাতে প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন।

এই উদ্যোগের ফলে ইতোমধ্যে অনেক নারী প্রশিক্ষণ শেষে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাচ্ছেন। কেউ কেউ উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন। এটি শুধু নারীর ক্ষমতায়নই নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক একটি দিক।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশনের বিভাগীয় প্রধান ও এনএইচটিটিআই ব্যবস্থাপক জাহিদা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, আমার সঙ্গে কাজ করা অনেক নারী পারিবারিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। আমরা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সহায়তা করার চেষ্টা করি। যেমন, একজন মেয়ে ব্যক্তিগত কিছু ভিডিও সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সামাজিকভাবে অপমানের শিকার হয়েছিল। তাকে দ্রুত একটি ভালো চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। আরেকজন মাদকাসক্ত ছিল, তাকেও পুনর্বাসনের মাধ্যমে পাঁচ তারকা হোটেলে চাকরি দিতে পেরেছি। এমন অসংখ্য নারী এখন সফলভাবে কাজ করছেন। এমনকি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারীও প্রশিক্ষণ নিয়ে সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে মানসম্পন্ন সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি নারীদের জন্য বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা এবং বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে তারা বিদেশে ভালো কাজের সুযোগ পাবে এবং দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সহজ হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন শুধু সামাজিক বিষয় নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক প্রয়োজনও। দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের কর্মক্ষম করে তোলা গেলে তারা পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। তাই এই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত— নারীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি করা।


   আরও সংবাদ