ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ঢাকার ৫৭ আসনে জয়, ১৩ আসনে কেন হার বিএনপির

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৬:৩৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার


ঢাকার ৫৭ আসনে জয়, ১৩ আসনে কেন হার বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বেসরকারিভাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলে দলটি জয়ী হয়েছে ২০৯টিতে।

ঢাকা বিভাগের ৭০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৫৭টি আসনে। বিভাগের ১৩টি আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন।

এসব আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জামায়াত-সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ১১টিতে এবং দুটি আসনে জয় এসেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘরে।

 

পরাজিত ১৩টি আসনের মধ্যে ঢাকা–৪, ঢাকা–৫, ঢাকা–১২, ঢাকা–১৪, ঢাকা–১৫ ও ঢাকা–১৬ আসনে জামায়াত প্রার্থীদের জয় বিশেষভাবে নজরে এসেছে। ঢাকা–১১ ও নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে জয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরা। এ ছাড়া ফরিদপুর–১ ও গাজীপুর–৪ আসনেও জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হন।

মাদারীপুর–১ আসনে জয় পায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। টাঙ্গাইল–৩ ও কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীদের হারিয়ে জয়ী হয়েছেন দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী।

 

ঢাকার ১৩টি আসনে জয় পেলেন যারা
ঢাকা–৪ আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা–৫ আসনে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা–১২ আসনে সাইফুল আলম, ঢাকা–১৪ আসনে মীর আহমাদ বিন কাসেম, ঢাকা–১৫ আসনে দলের আমির মো. শফিকুর রহমান, ঢাকা–১৬ আসনে আব্দুল বাতেন, ফরিদপুর–১ আসনে ড. ইলিয়াস মোল্যা এবং গাজীপুর–৪ আসনে অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিন আইউবী। 

ঢাকা–১১ আসনে জয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মো. নাহিদ ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে একই দলের আবদুল্লাহ আল আমিন।

 

 

মাদারীপুর–১ আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসর সাইদ উবিন আহমাদ হানজালা। 

এ ছাড়া টাঙ্গাইল–৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ এবং কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিজয়ী হয়েছেন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে দলীয় বিদ্রোহী বা একই রাজনৈতিক ধারার প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোট বিভক্ত হয়েছে। এই বিভক্তির সুযোগ নিয়েছে তৃতীয় শক্তি, বিশেষ করে জামায়াত বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। টাঙ্গাইল–৩ ও কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় সেই চিত্রই স্পষ্ট করে।

ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব।

 

বিদ্রোহী প্রার্থীর পাশাপাশি মনোনীত প্রার্থীদের ইমেজ সংকট, স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার অভাব, তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব এবং সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তাও পরাজয়ের বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের কয়েকটি আসনে (৪, ৫, ১২, ১৪, ১৫ ও ১৬) মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম দুর্বল ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনেক ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যন্ত কার্যকরভাবে পৌঁছায়নি। নির্বাচনী সমন্বয়, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতিতে ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে ঢাকা–১১ ও নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে।

তবে ১৩টি আসনে পরাজয় সত্ত্বেও ঢাকা বিভাগে ৫৭টি আসনে জয় বিএনপিকে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে। অধিকাংশ আসনে দলীয় ঐক্য বজায় থাকায় বড় ব্যবধানে জয় এসেছে, যা দলের সামগ্রিক সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এই ফলাফল একদিকে বিএনপির রাজনৈতিক শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করলেও অন্যদিকে হারানো ১৩টি আসন ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্ক সংকেত। বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা; এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে সামনে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।

৫৭ আসনে জয়ী যারা
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল-১ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম; টাঙ্গাইল-২ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সালাম পিন্টু; টাঙ্গাইল-৪ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান; টাঙ্গাইল-৫ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু; টাঙ্গাইল-৬ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. রবিউল আওয়াল; টাঙ্গাইল-৭ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী; টাঙ্গাইল-৮ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জ-১ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম; কিশোরগঞ্জ-২ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন; কিশোরগঞ্জ-৩ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক; কিশোরগঞ্জ-৪ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. ফজলুর রহমান; কিশোরগঞ্জ-৬ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. শরীফুল আলম।

মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ-১ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর; মানিকগঞ্জ-২ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান; মানিকগঞ্জ-৩ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আফরোজা খানম।

মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জ-১ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ; মুন্সিগঞ্জ-২ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ; মুন্সিগঞ্জ-৩ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতন।

ঢাকা: ঢাকা-১ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক; ঢাকা-২ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. আমানউল্লাহ আমান; ঢাকা-৩ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়; ঢাকা-৬ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইশরাক হোসেন; ঢাকা-৭ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হামিদুর রহমান; ঢাকা-৮ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ; ঢাকা-৯ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ; ঢাকা-১০ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম; ঢাকা-১৩ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ; ঢাকা-১৭ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তারেক রহমান; ঢাকা-১৮ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেন; ঢাকা-১৯ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন; ঢাকা-২০ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. তমিজ উদ্দিন।

গাজীপুর: গাজীপুর-১ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান; গাজীপুর-২ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি; গাজীপুর-৩ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এসএম রফিকুল ইসলাম; গাজীপুর-৫ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন।

নরসিংদী: নরসিংদী-১ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন; নরসিংদী-২ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. আব্দুল মঈন খান; নরসিংদী-৩ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনজুর এলাহী; নরসিংদী-৪ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; নরসিংদী-৫ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আশরাফ উদ্দিন।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-১ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া; নারায়ণগঞ্জ-২ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম আজাদ; নারায়ণগঞ্জ-৩ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান; নারায়ণগঞ্জ-৫ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম।

রাজবাড়ী: রাজবাড়ী-১ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম; রাজবাড়ী-২ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ।

ফরিদপুর: ফরিদপুর-২ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু; ফরিদপুর-৩ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ; ফরিদপুর-৪ এ বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল।

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ-১ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা; গোপালগঞ্জ-২ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. কে এম বাবর আলী; গোপালগঞ্জ-৩ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস. এম. জিলানী।

মাদারীপুর: মাদারীপুর-২ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া; মাদারীপুর-৩ এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার।

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর-১ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম; শরীয়তপুর-২ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরণ; শরীয়তপুর-৩ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

ঢাকা বিভাগের বাইরে জাতীয় ফলাফলেও বিএনপির আধিপত্য স্পষ্ট। ২৯৭টি আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, এনসিপি ছয়টি এবং খেলাফত মজলিস দুটি আসনে জয় পেয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।


   আরও সংবাদ