ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার
ধামইরহাট প্রতিনিধি( নওগাঁ),
১৪ফেব্রুয়ারী শনিবার, ১ লা ফাল্গুন,
কবির ভাষায়বলতে হয় ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত’ এমন মধুর লগনে প্রকৃতি আর প্রাণের আপন উচ্ছ্বাস উৎসবের রঙে ঢঙে মদিরায় মেতে ওঠে। আজ হৃদয় খোলার দিন। অদ্ভুত এক শিহরণ এখন। মনে তো বটে। সেইসঙ্গে বনেও। রূপ লাবণ্যে জেগে উঠেছে প্রকৃতি, রঙিন চারপাশ। বৃক্ষের নবীন পাতায় আলোর নাচন! গোলাপ, জবা, পারুল, পলাশ, পারিজাতের হাসি। ঘরছাড়া মৌমাছি।
ঠিক একই দিন একই ক্ষনে যুক্ত হয়েছে বাঙ্গালির আরে একটি উৎসব আর সেটি হলো বিশ্ব "ভালোবাসা দিবস"।ফুল আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত।কারন ভালোবাসা ত ফুল ছাড়া অসম্পূর্ণ।
শীতের রিক্ততা মুছে দিয়ে প্রকৃতিজুড়ে আজ সাজ সাজ রব। ফুল ফুটবার পুলকিত এ দিনে বন-বনান্তে কাননে কাননে পারিজাতের রঙের কোলাহলে ভরে উঠবে চারদিক। কচি পাতায় আলোর নাচনের মতই বাঙালির মনেও লাগবে দোলা। বসন্তরাণীর আগমনে মাতাল হবে সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ। এজন্যই কবি বলেছেন, এই ফাগুনে সাঝিয়েছি অঞ্জলি, আমার হৃদয়ের থালা ভরে। দেখা হোক, আদর হোক ভালোবাসায়। দু’টি হৃদয় একটি থালায়, শিমুল ও পলাশের ফুলে ফুলে।
আগুন রাঙা এ ফাগুনে প্রকৃতিতেই শুধু উচ্ছ্বাসের রঙ ছড়ায় না, রঙ ছড়ায় প্রতিটি তরুণ প্রাণে। প্রাণের টানে, আর প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে মন হয়ে ওঠে উত্তাল, বাঁধনহারা। বসন্ত নিয়ে যেন তরুণদের উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। বসন্ত মানেই পূর্ণতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানেই একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের এ ঋতু বাসন্তী রঙে সাজায় মনকে, মানুষকে করে আনমনা। এমনও মধুর দিনে এমন শঙ্কাও কি জাগে না অধীর প্রতিক্ষায় থাকা কোন মনে- ‘সে কি আমায় নেবে চিনে এই নব ফাগুনের দিনে- জানিনে...?’।
এদিনেই বাসন্তী রঙে রঙিন হয় পর্যটন স্পটগুলো। ফাগুনে আগুনঝরা শিমুল বাগানের রক্তিম আভার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রকৃতিপ্রেমী হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে এ দিনটায়। শীতে খোলসে ঢুকে থাকা বন-বনানী অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠে। পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তে সাজ সাজ রব।
ঋতুচক্র এখন যেন আর পঞ্জিকার অনুশাসন মানছে না। কুয়াশার চাদরমোড়া অকাল শীত তার তীব্রতা ছড়াতে না ছড়াতেই বিদায় নিল। প্রকৃতির দিকে তাকালে শীত বরষার মত বসন্তকেও সহজে চেনা যায়। ঋতুররাজা বসন্তকে বরণ করা হবে আজ। প্রকৃতির যা-ই আমাদের অবশিষ্ট আছে সেটাই সাজবে আজ। ফুল এখন এই বসন্তে ফুটবে গাছ কম থাক আর বেশি যা-ই থাক। তবে গাছ থাক না থাক, ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত।’মাঘের বিদায় আর বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে আজ নতুনত্বের ছোঁয়া। পঞ্জিকার হিসেবে আজ ফাল্গুনের প্রথম দিন।
একই সঙ্গে আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।এদিনে সবাই তার ভালোবাসা প্রকাশিত করতে ব্যাকুল হয়ে থাকে।
বিশ্ব তথ্য মতে সম্ভবত ৪৯৬ সালে প্রথম ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপন করা হয়। তবে সে সময় এই দিবসকে ঘিরে তেমন সাড়া ছিল না। অনেকের ধারণা, সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর দিনকে স্মরণ করতেই ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ এই দিবস পালন করা শুরু হয়।
আবার অনেকের দাবি, রোমান উৎসব থেকে এই দিবসের উদ্ভূত বলে মনে করা হয়। রোমানদের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে লুপারকালিয়া নামে একটি উৎসব ছিল। এটি ছিল তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্ত মৌসুম শুরু হওয়ার দিন।
এই উদযাপনের জন্য সে সময় ছেলেরা একটি বাক্স থেকে মেয়েদের নাম লেখা চিরকুট তুলতেন । যে ছেলের হাতে যেই মেয়ের নাম উঠত, তারা দুজন ওই উৎসব চলাকালীন সময়ে বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড থাকতেন। অনেক সময় ওই জুটিই বিয়েও সেরে ফেলতেন।
পরবর্তী সময়ে, গির্জা এই উৎসবটিকে খ্রিস্টান উৎসবে রূপ দিতে চেয়েছিল। অন্যদিকে সেইন্টকে স্মরণেও ফেব্রুয়ারিতে এই দিবস চালু হয়।
পঞ্চদশ শতকে ভালোবাসা দিবস জনপ্রিয় হতে শুরু করে। সে সময় একজন আরেকজনকে ভালোবাসার বার্তা জানাতো। এর পর সপ্তদশ শতকে এই দিনে ভালোবাসা প্রকাশ করে কার্ড পাঠানোর রীতি শুরু হয়।
বাংলাদেশে ১৯৮০ এর দশক থেকে এ দিনটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে।