ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২১:২৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
বড় এবং দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না করলেও বিদেশ থেকে তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের ডেকে নানা পদে উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তার নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঋণ প্রবণতার লাগাম টেনে ধরতে পারেনি। তার শাসনামলের ১৪ মাসে দেশের ঋণের পরিমান দুই লাখ ৬০ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা বেড়েছে। যার দায় এসে পড়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর, যা বর্তমান সরকারের জন্য অতিরিক্ত মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ওই বছরের ৩০ জুন সরকারের মোট ঋণ ছিল ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অক্টোবর থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের ঋণতথ্য বিবেচনা করলে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার বড় বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছিল, অন্তবর্তীকালীন সরকার বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয় ব্যাপকভাবে কাটছাঁট করলেও ঋণনির্ভরতা কমাতে পারেনি।
লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ করতে না পারা এবং আগের ঋণ পরিশোধের চাপের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমাতে না পারায় ঋণ বেড়েছে।
এছাড়া আগের সরকারের রেখে যাওয়া অনেক বকেয়া দায় অন্তবর্তী সরকার পরিশোধ করলেও বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া, এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ভাতা পরিশোধ করাসহ নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকারের জন্য রেখে গেছে, যা নির্বাচিত বর্তমান সরকারের জন্য অতিরিক্ত বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
ফ্যামিলি কার্ড চালু করা, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বিবেচনা করাসহ নির্বাচনী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণে বিএনপিকে আগামী ১০০ দিনের মধ্যেই নতুন বাজেট ঘোষণা করতে হবে। এরই মধ্যে সরকার আগামী ঈদের আগে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
আগামী অর্থবছর রাজস্ব আহরণের অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কারা না গেলে বাজেটের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রতিবেদন থেকে ঋণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্তবর্তী সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণের চেয়ে বৈদেশিক উৎস থেকে বেশি ঋণ নিয়েছে। এই সময়ে আইএমএফ এর ঋণের কিস্তির অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস বাজেট সাপোর্ট নিয়েছে। গত অর্থবছর সরকার ৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার বাজেট সাপোর্ট পেয়েছে, আগের অর্থবছর এর পরিমাণ ছিল ২ বিলিয়ন ডলার। বিদেশি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধিতে ইউনুস সরকারের ১৫ মাসে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণের পরিমাণ ৮.১২ লাখ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৯.৫১ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
হাসিনা সরকারের পতনের একমাস আগে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১০.৭৬ লাখ কোটি, যা গত সেপ্টেম্বর নাগাদ বেড়ে হয়েছে ১১.৯৭ লাখ কোটি টাকা। এ অবস্থায় বর্তমান সরকারকেই এই অতিরিক্ত ঋণের চাপ নিতে হবে। এটাও হবে নতুন সরকারের জন্য বড় চাপ। এ দায় মাথায় রেখেই সরকারকে পরিকল্পনা নিতে হবে।