ঢাকা, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ঢাকায় বিএনপি প্রার্থীদের প্রচারণা

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬ ২১:০২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার


ঢাকায় বিএনপি প্রার্থীদের প্রচারণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। দোয়া ও মোনাজাত, গণসংযোগ, পথসভা, সংক্ষিপ্ত জনসভা ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে ঢাকা মহানগরের একাধিক আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

প্রচারণার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হন। স্থানীয় মসজিদ, বাজার, আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তারা।

এ সময় প্রার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর অনেক এলাকা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। জনগণের ভোট ও সমর্থন পেলে সংসদে গিয়ে এসব এলাকার সমস্যা তুলে ধরবেন এবং সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

 

প্রচারণাকালে বিএনপি প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার মুরুব্বি, আলেম-ওলামা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীক হাতে গণসংযোগে বের হন। এ সময় তারা ভোটারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ও বুকে জড়িয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ভোট প্রার্থনা করেন।

নেতাকর্মীরা এলাকায় এলাকায় লিফলেট বিতরণ করে প্রার্থীদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।

 

ঢাকা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন শ্যামপুর লাল মসজিদে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা করেন। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে রাজনীতি করাই তার মূল লক্ষ্য। অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের কথা জানান।

 

ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করতে চান। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের পাশে থাকার এবং সবার অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি এলাকার সার্বিক সমস্যা সম্পর্কে অবগত। ভোটারদের কাছে সুযোগ চেয়ে তিনি জানান, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই তার লক্ষ্য।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এবং নাগরিক জীবনের নিত্যদিনের সমস্যা সমাধানে আজীবন পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি।

 

ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। তিনি বলেন, ধানের শীষ গণতন্ত্র ও বিএনপির আদর্শের প্রতীক। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য।

ঢাকা-১০ আসনে বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল ইসলাম রবি বাদ এশা ধানমন্ডির কলাবাগান এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন। তিনি বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃতি মালিক। রাজনীতি হবে সেবার জন্য কর্তৃত্বের জন্য নয়। চাঁদাবাজি, দখলদারত্বের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। এলাকার সকল সমস্যা সমাধান করে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি সমর্থিত ঢাকা-১২ আসনের কোদাল মার্কার প্রার্থী সাইফুল হক বলেন, কালো টাকা ও পেশিশক্তির রাজনীতি দিয়ে আর ভোটের বাক্স ভরা যাবে না। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, মাস্তানি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনগণই তাদের রায় দেবে।

শহীদ ও নিখোঁজ নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে প্রতি মাসে ওয়ার্ডভিত্তিক গণশুনানির মাধ্যমে জনগণের সমস্যা সরাসরি শুনবেন এবং সমাধানে কাজ করবেন।

ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম তারেক রহমানের পক্ষে গণজোয়ার গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনগণই ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্ধারণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রচারণাকালে বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন। তারা শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ ছাড়াও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাকে তারা প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।

ঢাকা-৪ আসনের কয়েকজন সাধারণ ভোটার বাংলানিউজকে বলেন, নির্বাচন এলেই নেতাদের কাছ থেকে নানা প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। তবে নির্বাচনের পর অনেক সময় তাদের খোঁজ পাওয়া যায় না। তারা বলেন, এবার ভোট দেওয়ার আগে প্রার্থীরা সত্যিই এলাকার সমস্যা সমাধানের যোগ্য কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি।

ভোটাররা আরও জানান, তারা আশাবাদী যে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং কেন্দ্র দখল বা বাধা ছাড়াই নিজের ভোট নিজে দিতে পারবেন।

প্রার্থীদের জনসংযোগ টিম সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর সব আসনেই ধারাবাহিকভাবে গণসংযোগ, পথসভা ও জনসভা চলবে। এসব কর্মসূচিতে দলীয় শীর্ষ নেতারাও অংশ নিতে পারেন।


   আরও সংবাদ