ঢাকা, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৮:৩৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার


সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব

ঢাকা: নবম জাতীয় পে-স্কেল (বেতন কাঠামো) নিয়ে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করবে এ সংক্রান্ত কমিশন। জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন স্কেলে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কমিশনের সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ প্রতিবেদন জমা দেবেন। এসময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

 

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে।

প্রস্তাবে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ।

 

এছাড়া প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় নিচের ধাপে বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কমিশনের সব সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীরা সন্তুষ্ট হবেন।

 

পে কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, নবম পে স্কেলের সব বিষয় মোটামুটি চূড়ান্ত। খসড়া সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে আজ তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সুপারিশের কোনো কপি সদস্যদের কাছে থাকবে না। এটি শুধু প্রধান উপদেষ্টার কাছেই থাকবে। 

এদিকে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে না।

রিপোর্টটি জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হবে। এ প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। ফলে এটি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।  

 

তিনি বলেন, এবারের পে-কমিশন কাজের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কমিশন সদস্যরা বহুবার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, ছাত্র, বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী ও বয়স্ক নাগরিকদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। ফলে কমিশন সদস্যরা সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সুপারিশ প্রস্তুত করেছেন এবং এতে তারা সন্তুষ্ট হবেন। তবে সবার চাহিদা হুবহু বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও, তাদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা সুপারিশে প্রতিফলিত হবে।

বেতন বৃদ্ধি বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজারে এর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। কারণ সরকার সরবরাহপক্ষ (সাপ্লাই সাইড) শক্তিশালী রাখার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ। সে হিসেবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পে-স্কেলের জন্য পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্য নিয়ে বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।


   আরও সংবাদ