আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৪ বার
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা এবং জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটার উদ্বেগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে। নিজেদের স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।
এতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আরও ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৯৭ দশমিক ৩৪ ডলারে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেল ১ দশমিক ১৫ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৩ ডলারে লেনদেন হয়।
এর আগের দিন ব্রেন্টের দাম ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে তেলের দামে নতুন করে ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য যোগ হচ্ছে।
সোমবার ইরান সতর্ক করে বলেছে, দেশটির স্থাপনায় আবার হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাসসংশ্লিষ্ট স্থাপনাও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এর আগে শনিবার মার্কিন বাহিনী তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়, যার একটি ছিল ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি অঞ্চলে থাকা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাইনস বলেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা এবং আরও সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি বেড়েছে।
তার মতে, ২০২৬ সালের বাকি সময় পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ সীমিত থাকতে পারে। যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক সরবরাহ পরিস্থিতিতে পুরোপুরি ফিরতে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের শেষ বা দ্বিতীয় প্রান্তিকের শুরু পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন আগামী বছরও অব্যাহত থাকতে পারে—এমন ধারণায় তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস। ব্যাংকটি ডিসেম্বর ২০২৬-এর জন্য ব্রেন্টের পূর্বাভাস ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের পূর্বাভাস ৮০ ডলার করেছে।
২০২৭ সালের জন্যও গোল্ডম্যান স্যাকস ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭৫ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বছরের শেষ পর্যন্ত তেলের দাম উঁচু পর্যায়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহে নতুন বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।