ঢাকা, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

হাসনাত আবদুল্লাহর দুঃখপ্রকাশ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৯ অগাস্ট, ২০২৬ ১৫:১৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫২ বার


হাসনাত আবদুল্লাহর দুঃখপ্রকাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত এ দুঃখপ্রকাশ করেন।

 

নিজের দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করছি।’

নিজের ফেসবুকে হাসনাত বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই।

তার দাবি, এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপিয়েছেন এবং সেখানকার আলেম-উলামাদের ভাবমূর্তি বিশ্ববাসীর কাছে ক্ষুণ্ন করেছেন।

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তব চিত্র তার থেকে আলাদা ছিল।

গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমাতে বলেছিলেন।

এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।

 

হাসনাত বলেন, ‘মিডিয়া ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলেও ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটা স্পষ্ট, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি। তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন।’

তার দাবি, এর অর্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ সম্পর্কে ভুল বার্তা গেছে এবং তাদের ছোট করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নৌকাবাইচের প্রসঙ্গে নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করে হাসনাত বলেন, স্থান উল্লেখের ক্ষেত্রে তার ভুল হয়েছিল। সিলেটের জায়গায় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এ পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যম কীভাবে তা উপস্থাপন করেছে, সেটি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত বলা তার উচিত ছিল। তবে সম্পূরক প্রশ্নের সময়সীমা সীমিত থাকায় সে সুযোগ পাননি।

হাসনাত বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং সব নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নিতে চান। তার ভাষায়, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ অন্যের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি তার ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, বিতর্ক ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকবে, কিন্তু কেউ কাউকে জোর করে নিজের মতামত চাপিয়ে দিতে পারবে না। জুলাই এই ‘কমন মিনিমাম গ্রাউন্ড’র ঐক্যের প্রতীক।

হাসনাত আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি অন্যায়ভাবে কারও ওপর জোর খাটায় বা নিজের মতামত চাপিয়ে দিতে বাধ্য করে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব তা প্রতিহত করা এবং সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। সরকার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে এবং সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়।

নিজের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ সবার, এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে।’

তিনি বলেন, যার যেটি পছন্দ হবে, সে সেটিতে যাবে ও অংশ নেবে আর যার পছন্দ হবে না, সে সেখানে যাবে না। সরকারের দায়িত্ব হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা।

হাসনাতের দাবি, বর্তমানে সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এর ফলে সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, জুলাই ছিল ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার আন্দোলন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, সর্বজনীন সমাজ গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করাই ছিল সেই আন্দোলনের লক্ষ্য। সেই বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা তারা করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও করে যাবেন।

এর আগে হাসনাতের ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে হাসনাতের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এ সময় তারা হাসনাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তার বক্তব্যের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষমা না চাইলে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হতে দেওয়া হবে না। জেলার কোথাও এনসিপির কোনো কর্মসূচিও হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় সরকারের সমালোচনা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

হাসনাত বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং সব নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নিতে চান। তার ভাষায়, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ অন্যের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি তার ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি অন্যায়ভাবে কারও ওপর জোর খাটায় বা নিজের মতামত চাপিয়ে দিতে বাধ্য করে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব তা প্রতিহত করা এবং সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। সরকার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে এবং সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়।

নিজের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে হাসনাত বলেন, ‘এই বাংলাদেশ সবার এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে।’

তিনি বলেন, যার যেটি পছন্দ হবে, সে সেটিতে যাবে ও অংশ নেবে, আর যার পছন্দ হবে না, সে সেখানে যাবে না। সরকারের দায়িত্ব হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা।


   আরও সংবাদ