ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ইরানে আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৪:০৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৯ বার


ইরানে আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রধান পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের পেছনে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে মোট ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির এক শুনানিতে হেগসেথ এই হিসাব নিশ্চিত করেন।

সেখানে তিনি ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন উভয়েই ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের অনুরোধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্যই প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

তা সত্ত্বেও এই অঙ্কটি অন্য অনেক অনুমানের তুলনায় বেশ কম; বিশেষ করে সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ওপর যুদ্ধের অতিরিক্ত খরচগুলোর প্রভাব হিসাব করলে এই ব্যবধান আরও বেশি বোঝা যায়। উদাহরণস্বরূপ, মুডিস অ্যানালিটিকস অনুমান করেছে, মার্কিন জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিলে এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে খরচ ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

 

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডিক ডারবিনের প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, আজ পর্যন্ত আমাদের হাতে থাকা হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার।

তিনি আরও জানান, এই মূল্যের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের কিছু খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

 

সর্বশেষ এই হিসাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের গত মে মাসে প্রকাশ করা ২৯ বিলিয়ন ডলারের আগের পরিসংখ্যানের তুলনায় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেশি।

গত ১৭ জুন থেকে হামলা বন্ধ রাখার একটি সমঝোতা স্মারক গত সপ্তাহে ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে লড়াই পুনরায় তীব্র আকার ধারণ করে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হেগসেথ কমিটির সামনে হাজির হন।

গত সোমবার মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকার দশম রাতের ঠিক আগে ট্রাম্প জানান, সপ্তাহান্তে আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার মূল্য দিতে হবে ইরানকে।

গত এক সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানে জ্বালানি প্ল্যান্ট ও সেতুগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন, ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল করতে পদাতিক সেনা পাঠানোর কথা বলেছেন, এবং ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে একটি ভূগর্ভস্থ পরমাণু-সংলগ্ন সাইটে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন।

সংঘাতের ক্ষেত্রে দরকষাকষির মূল হাতিয়ার হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য যেসব স্থান ব্যবহার করে, মার্কিন হামলা এখন পর্যন্ত মূলত সেই জায়গাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এদিকে ইরানও এই অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনা ও সম্পদগুলোতে হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। সম্প্রতি কুয়েতে শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে এবং বাহরাইন ও জর্ডানের অন্যান্য স্থানেও আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইয়েমেনের হুথিরাও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে।

শুনানির শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে হেগসেথ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার চাপের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন অস্ত্রশস্ত্রের উৎপাদন লাইন প্রসারিত করতে এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে তহবিলের প্রয়োজন। আমরা সলিড মোটর রকেট, জেডিএএম (জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মুনিশন), হাইপারসনিক এবং ড্রোন প্রতিরোধী সক্ষমতার কথা বলছি।

পেন্টাগন প্রধান যুদ্ধের কারণে আসন্ন বাজেট ঘাটতির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমাদের বাজেটের চাহিদা যদি দ্রুত এবং সঠিকভাবে পূরণ না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কমিয়ে আনতে হবে। হ্যাঁ, এর কিছু অংশ বর্তমান বাজেট চক্র এবং বিষয়গুলো যেভাবে সামনে আসছে তার সঙ্গে জড়িত।

সূত্র: আল জাজিরা


   আরও সংবাদ