ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ মার্চ, ২০২৬ ১৫:২১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, স্পিকারের কাছে নিবেদন থাকবে, কোনো ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসররা যেন বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ওপর আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কারণেই আমরা এই মহান সংসদে বসতে পেরেছি।
এখানে আমরা সকলেই ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সৈনিক। আপনার প্রতি নিবেদন থাকবে, কোনো ফ্যাসিস্ট বা তার দোসর যেন আজকের এই মহান সংসদে বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে।
বিচার দাবি করে তিনি বলেন, আমরা জুলাই গণহত্যার বিচার চাই। শরীফ ওসমান হাদী হত্যা, গুম-খুন, বিগত সময়ের লুটপাট ও দুর্নীতির বিচার চাই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা হলো একটি নতুন বন্দোবস্ত—গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন, মানবিক, আধিপত্যবাদমুক্ত ও ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ। সংবিধানে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্যদের শপথ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মিছিল নিয়ে আমরা এই জাতীয় সংসদের প্রাঙ্গণে এসেছিলাম এবং সংসদকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছিলাম। আজ হাজারো শহীদের রক্ত আর অসংখ্য আহত-পঙ্গু দেশপ্রেমিকের সর্বোচ্চ ত্যাগের ফসল হিসেবে আমরা এই সংসদে বসতে পেরেছি।
শহীদদের রক্তের সঙ্গে আমরা কোনো বেঈমানি করব না।
শোক প্রস্তাবে অংশ নিয়ে তিনি ৪৭-এর লড়াই, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর, মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং বিগত সময়ের গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিসহ ২৪-এর শহীদদের স্মরণ করেন। ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা শরীফ ওসমান হাদী, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ আবরার ফাহাদ এবং সীমান্তে নিহত ফেলানী খাতুনের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ৪ বছরের শিশু আহাদ, ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপসহ প্রায় দেড়শ শিশুর কথা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে উল্লেখ করেন নাহিদ। পুলিশের এপিসি থেকে ফেলে দেওয়া শহীদ ইয়ামিন, আশুলিয়ায় আগুনে পুড়িয়ে মারা কিশোর সজল এবং মায়ের কাছে চিঠি লিখে যুদ্ধে যাওয়া দশম শ্রেণির ছাত্র শহীদ আনাসের কথাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, প্রবাসী এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানের ভ্যানগার্ড ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলো। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থী ও বামপন্থী ছাত্রকর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছেন। একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।