ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

নিউজিল্যান্ডকে তুলোধুনো করে ভারতের তৃতীয় শিরোপা

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬ ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৪ বার


নিউজিল্যান্ডকে তুলোধুনো করে ভারতের তৃতীয় শিরোপা

তিনদিনের ব্যবধানে নিজেদের রেকর্ডই নিজেরাই ভেঙে ফেললো ভারত। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫৩ রান করা ভারত ফাইনালে করল ২৫৫ রান।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট ম্যাচে যা সর্বোচ্চ সংগ্রহ। প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডকে শিরোপা জিততে হলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হতো।



রেকর্ড ভাঙাতো দূরের কথা, উল্টো ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১৫৯ রানে অলআউট হতে হয়েছে কিউইদের। ৯৬ রানে জিতে তৃতীয় বারের মতো ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়লো ভারত।

 

এর আগে ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। লম্বা সময় পর ২০২৪ সালে দ্বিতীয় বারের মতো শিরোপা জেতে তারা।

এবারতো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়েই মাঠে নেমেছিল তারা। কিউইদের একেবারে নাস্তানাবুদ করে তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুললো ভারত। যা আর কোনো দেশ পারেনি। দুইবার করে টি-টোয়েন্টি ট্রফি জিতেছে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড।

 

 

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে নামলেও ইতিহাস বদলাতে পারলো না! ২০২১ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল কিউইদের। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচাতে মরিয়া ছিল মিচেল স্যান্টনারের দল। কিন্তু স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে একেবারে অসহায় হয়ে আরও একবার শিরোপা বঞ্চিত হলো তাদের।

রোববার আগে ব্যাটিং করে ভারত নিউজিল্যান্ডকে ২৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে। কঠিন সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থেমেছে ১৫৯ রানে।

টিম শেইফার্ট এবং মিচেল স্যান্টনার ছাড়া কিউইদের আর কোনো ব্যাটার ভারতীয় বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। ২৬ বলে ৫২ রান করেছেন শেইফার্ট। স্যান্টনারের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ রান। বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল ড্যারি মিচেল (১৭) দুই অঙ্কের ঘরে রান করতে পেরেছেন। ব্যাটারদের অবর্ণনীয় ব্যর্থতায় কিউইদের ইনিংস থেমেছে ১৫৯ রানে।

 

কিউই বোলারদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন জশপ্রীত বুমরা এবং অক্ষর প্যাটেল। ১৫ রান খরচায় বুমরার শিকার ৪ উইকেট। অন্যদিকে ২৭ রানে ৩ ব্যাটারকে ফেরান প্যাটেল। এছাড়া বরুণ, অভিষেক ও হার্দিক নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত রানের খাতা খুলেছিল ছক্কা দিয়ে। ম্যাট হেনরির করা প্রথম ওভারের পঞ্চম বলটি উড়িয়ে সীমানা ছাড়েন সঞ্জু স্যামসন। ওই শুরু, এরপর একের পর এক লম্ব শট খেলে কিউই বোলারদের বলকে ভারতীয় ব্যাটাররা সীমানা ছাড়াতে বাধ্য করেছেন। স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ইশান কিষানের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভারত ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের রেকর্ড সংগ্রহ করেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে এর চেয়ে বেশি রান কেউ করতে পারেনি। শুধু তাই নয়, ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ফাইনালে সর্বোচ্চ রান ছিল ১৮০।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ৭.১ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে ভারতকে ৯৮ রান এনে দেন ওপেনার অভিষেক শর্মা ও স্যামসন। ২১ বলে ৫২ রান করে অভিষেক যখন বিদায় নেন, তখন পর্যন্ত ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে ছিল।

অভিষেকের বিদায়ের পরও ভারতের তান্ডব থামেনি। ইশান কিষানের সঙ্গে স্যামসন গড়ে তুলেন ৪৮ বলে ১০৫ রানের কার্যকরী জুটি। ৪৬ বলে ৫ চার ও ৮ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৮৯ রান উপহার দেন স্যামসন। আগের ম্যাচেও সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সাজঘরে ফেরেন।

স্যামসনের বিদায়ের পর ইশানও ২৫ বলে ৫৪ রান করে বিদায় নেন। হার্দিক পান্ডিয়া ১৩ বলে ১৮ রান করে দ্রুত বিদায় নেন। দিনটি ভারতের ব্যাটারদের ছিল, অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ব্যর্থ হলেও শেষ দিকে শুভম দুবে ৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থেকে দলের স্কোরকে ২৫৫ রানে পৌঁছে দেন।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নেন জেমস নিশাম। এছাড়া রবীন্দ্র এবং হেনরির শিকার করেছেন একটি করে উইকেট।


   আরও সংবাদ