ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

শর্ত মানলে দুদিনেই খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৪ বার


শর্ত মানলে দুদিনেই খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একদিকে চলছে হুমকি-পাল্টা হুমকি, অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পরোক্ষ আলোচনা। বিভিন্ন শর্তের বিনিময়ে সমঝোতার ইঙ্গিতও দিচ্ছে দুই দেশ।

এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘বৈধ’ দাবিগুলো মেনে নিলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব।

 

 

সোমবার (২ নভেম্বর) তেহরানে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এ কথা জানান।

 

বাঘায়ি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে সেপ্টেম্বরে তেহরানের প্রস্তাব করা সাত দিনের পরিকল্পনাটি এখনো বহাল রয়েছে। তবে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সময়সীমা কমিয়ে দুই দিন করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি, ইরানের দাবিগুলো পূরণ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আলোচনা শুরুর সুযোগ তৈরি হবে।’

তবে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানান তিনি।

 

বাঘায়ি বলেন, ইরানের দাবিগুলো স্পষ্ট, যুক্তিসংগত ও যৌক্তিক। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করে এবং তেহরানের দাবিগুলো মেনে না নেয়, তাহলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া কিংবা সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কঠিন হবে।

চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তসংবলিত সাত দিনের পরিকল্পনাটি গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠায় ইরান। এরপর থেকে প্রস্তাবটি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে যৌথ হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে দেশটি।

নতুন যুদ্ধ আগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আরও কিছু স্থাপনায় হামলার হুমকি দেওয়ার পর নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধ আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সেই যুদ্ধ কখন শেষ হবে কিংবা কী শর্তে শেষ হবে, তা নির্ধারণের অবস্থানে থাকবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।’

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে দ্রুত হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

গত ৩১ অক্টোবর ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এখনো এক বা দুটি স্থাপনায় হামলা চালানোর কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলোতে হামলা চালাতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগতে পারে।

এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এটি ইরানের একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা। ১ নভেম্বর আইওয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশেও সেখানে হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর এক ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর জন্য চাপ দেন। তবে ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আরও সময় দেওয়ার পক্ষে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা!

এদিকে মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার সিদ্ধান্ত কয়েক দিনের মধ্যেই নিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।

রোববার গভীর রাতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মধ্য ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দিতে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তবে কার্লসনের এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


   আরও সংবাদ