ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪৩ বার
দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন ৬৬ জন মানুষ। বছরে প্রাণ হারাচ্ছেন ২৪ হাজার ২৩৩ জন।
আর অঙ্গ হারিয়ে স্থায়ী প্রতিবন্ধী হচ্ছে ১০৪ জন। অথচ মহাসড়কের পাশে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মাণ করা ২৪টি ট্রমা সেন্টারের বেশির ভাগই চিকিৎসক, নার্স, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে কার্যকর নয়।
আজ ১৭ অক্টোবর বিশ্ব ট্রমা দিবস। দুর্ঘটনা ও আঘাতের শিকার মানুষের জীবন রক্ষা, জরুরি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা জরিপ ২০২২-২৩’ অনুযায়ী, দেশে বছরে দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন আঘাতজনিত কারণে প্রায় ৯৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, পানিতে ডোবা ও পড়ে যাওয়া এ চার কারণে প্রতিদিন গড়ে ২১১ জনের মৃত্যু হচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনার পর আত্মহত্যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর কারণ। এতে বছরে ২০ হাজার ৫০৫ জনের মৃত্যু হয়। পানিতে ডুবে মারা যান ১৮ হাজার ২৬৮ জন এবং বিভিন্নভাবে পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান ১৪ হাজার ২৬৮ জন।
২০২৪ সালে প্রকাশিত জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ও সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। দেশের ৬৪ জেলার শহর ও গ্রামের ১ লাখ ১০ হাজার পরিবারের ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ সদস্যের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব অবকাঠামো নির্মাণে অন্তত ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত না হওয়ায় কেন্দ্রগুলোর বেশির ভাগই দীর্ঘদিন কার্যক্রমহীন ছিল।
জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ও আঘাতজনিত কারণে গড়ে ৪৫ হাজার ৪০৮ জন আহত হন। একই সময়ে গড়ে ৩৮০ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হন। এর মধ্যে পড়ে গিয়ে ১৫৯ জন এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ১০৪ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি ট্রমা সেন্টারগুলোতে চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ, জরুরি রোগী স্থানান্তর এবং বড় হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।