ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার
দারিদ্র্যসীমার নিচে যাওয়ার ঝুঁকিতে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী। দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে থাকা প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কায় আবার দরিদ্র হয়ে পড়তে পারেন।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাপে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে খাবার, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।
আজ শনিবার আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য নিরাপদ আবাসস্থল’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার পাশাপাশি অর্জিত জীবনমান ধরে রাখা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জাতীয় উচ্চতর দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী দেশে দারিদ্র্যের হার ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসে।
একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশে। এ সময়ে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসে। তবে ২০১৬ সালের পর দারিদ্র্য কমার গতি মন্থর হয়ে পড়ে।
সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
জ্বালানি সংকট, ঋণের উচ্চ ব্যয়, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে মন্থরতা শিল্পকারখানার কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধা তৈরি করেছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন বলেন, আয় সীমিত অথচ নিত্যপণ্যের দাম বেশি হলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সংসারের ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়ত হিসাব করতে হয়। একপর্যায়ে তারা খাবার, চিকিৎসা কিংবা শিক্ষার খরচ কমাতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে পুষ্টিকর খাবারের বদলে কম দামের শর্করাজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভরতা বাড়লে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনও দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও লবণাক্ততায় ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকা হারিয়ে অনেক পরিবার নতুন করে সংকটে পড়ছে। এসব এলাকায় নিরাপদ আবাসনের পাশাপাশি সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য কমাতে টেকসই কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর করা জরুরি।