স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার
ঘরের মাঠে তিন গোল করেও হার এড়াতে পারল না ইন্টার মিলান। নিকোলো ত্রেসোলদির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ইতালিয়ান ক্লাবটিকে চমকে দিল ক্লাব ব্রুজ।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েও শেষ মুহূর্তের গোলে জয় হাতছাড়া হলো বায়ার্ন মিউনিখের। তবে এমন অঘটনের রাতে পিছিয়ে পড়েও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে মঙ্গলবার রাতে ইতালির সান সিরোয় রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইন্টার মিলানকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজ।
নরওয়েতে ভাইকিং স্টাভাঙ্গারের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে বায়ার্ন মিউনিখ।
আর তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাইয়ের মাঠে ৪-১ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা।
রাতের অন্য ম্যাচগুলোয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
লিলের বিপক্ষে মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে ৩-০ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে আর্সেনাল।
সান সিরোয় ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ক্লাব ব্রুজ। শুরুর দিকে একবার পোস্টে বল লাগিয়ে হতাশ হন ত্রেসোলদি। তবে গোলের দেখা পেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে।
৩০তম মিনিটে ব্রুজের কার্লোস ফোর্বসকে ফাউল করেন ইন্টারের হাকান চালহানোলু। পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে নেন ত্রেসোলদি।
বিরতির আগে সমতায় ফেরে ইন্টার। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে মার্কুস থুরাম ও ফেদেরিকো দিমারকোর সমন্বয়ে তৈরি হয় সুযোগ। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে সামলে ঘুরে দাঁড়িয়ে বল জালে পাঠান লাউতারো মার্তিনেস।
দ্বিতীয়ার্ধে আবার এগিয়ে যায় সফরকারীরা। ইন্টার গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেস ও তার রক্ষণভাগের ভুল বোঝাবুঝিতে সুযোগ পেয়ে যান ফোর্বস। গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল বের করে দেন তিনি। ফাঁকা জালে বল পাঠাতে কোনো অসুবিধা হয়নি ত্রেসোলদির।
৭৪তম মিনিটে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ফরোয়ার্ড। তাতে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় ব্রুজ।
তবে হাল ছাড়েনি ইন্টার। সাত মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমান মার্তিনেস। তাতে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে স্বাগতিকদের।
সেই আশায় আবার ধাক্কা দেন রোমেও ভেরমান্ট। ৮৭তম মিনিটে ব্রুজের চতুর্থ গোলটি করেন তিনি।
যোগ করা সময়ে আনজ-ইয়োয়ান বনি ইন্টারের হয়ে আরেকটি গোল করলেও তা শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত সাত গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে সান সিরো ছাড়ে ক্লাব ব্রুজ।
আরেক ম্যাচে নরওয়ের মাঠে বায়ার্ন মিউনিখের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই কর্নার থেকে হেডে স্বাগতিক ভাইকিং স্টাভাঙ্গারকে এগিয়ে নেন জিয়ানি স্টেনসনেস।
সমতায় ফেরার চেষ্টায় আক্রমণের চাপ বাড়ায় বায়ার্ন। কিন্তু সেই সুযোগে পাল্টা আক্রমণে ৩৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নরওয়ের দলটি।
দুই গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যাওয়া বায়ার্ন দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় হ্যারি কেইনের নৈপুণ্যে।
৫৪তম মিনিটে বায়ার্নের কনরাড লাইমারকে ফাউল করেন ক্রিস্তোফার হাউগেন। দীর্ঘ সময় ভিএআরে ঘটনা পর্যালোচনার পর পেনাল্টি পায় জার্মান ক্লাবটি। স্পট কিক থেকে ব্যবধান কমান কেইন।
ছয় মিনিট পর হেডে আরেকটি গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ইংলিশ স্ট্রাইকার।
এই গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা নয় ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েন কেইন। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টানা ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। ১১ ম্যাচে গোল করে সবার ওপরে আছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
৭১তম মিনিটে লুইস দিয়াসের গোলে প্রথমবারের মতো ম্যাচে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। দুই গোলে পিছিয়ে পড়া দলটির সামনে তখন দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের জয় তুলে নেওয়ার সুযোগ।
কিন্তু মাত্র তিন মিনিট পরই বড় ধাক্কা খায় তারা। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মাইকেল ওলিসে।
একজন কম নিয়ে বাকি সময় রক্ষণ সামলানোর চেষ্টা করে বায়ার্ন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর পেরে ওঠেনি।
যোগ করা সময়ে হারমান ইয়োহান হাউগেনের গোলে সমতায় ফেরে ভাইকিং। তাতে দুই গোলের ঘাটতি পুষিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরও ৩-৩ ব্যবধানের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় জার্মান জায়ান্টদের।
ইস্তাম্বুলে শুরুতে স্বাগতিক গালাতাসারাইয়ের চাপের মুখে পড়ে বার্সেলোনা। ২৮তম মিনিটে আলেক্সেই বাতরাকভের গোলে এগিয়ে যায় তুর্কি ক্লাবটি।
কিছুক্ষণ পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগও তৈরি হয় তাদের। বারিশ ইলমাজের হেডে বল জালে জড়ালেও ভিএআরে আক্রমণের শুরুতে অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে বার্সেলোনা।
বিরতির ঠিক আগে জোয়াও কানসেলোর গোলে সমতায় ফেরে হান্সি ফ্লিকের দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেন লামিনে ইয়ামাল। তরুণ স্প্যানিশ তারকার তৈরি করে দেওয়া সুযোগ থেকে ৫০তম মিনিটে গোল করেন ফের্মিন লোপেস।
মাত্র তিন মিনিট পর ইয়ামালের আরেকটি অ্যাসিস্টে ব্যবধান বাড়ান অ্যান্থনি গর্ডন।
অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায় গালাতাসারাই।
পরে কারিম আদেয়েমির গোলে ব্যবধান ৪-১ করে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।