ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা আঞ্চলিক সড়ক ধরে দৌড়াচ্ছেন ৭৪ বছর বয়সী খবির উদ্দিন খান। তার পেছনে ছুটছেন নানা বয়সী একদল মানুষ।
কেউ তাকে ডাকছেন ‘দাদু’, কেউবা করতালি দিয়ে দিচ্ছেন উৎসাহ। তাকে একনজর দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করছেন নারী-পুরুষ ও শিশুরা।
বয়সকে হার মানানো এই দৌড়বিদকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রায়পুরা ম্যারাথনে দেখা মেলে এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্যের।
৭৪ বছর বয়সেও ৪২ কিলোমিটার পথ দৌড়ে পাড়ি দিয়ে তারুণ্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন খবির উদ্দিন খান। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো রায়পুরা ম্যারাথনে অংশ নিলেন তিনি।
খবির উদ্দিন খান জানান, বয়স তাঁর কাছে নিছক একটি সংখ্যা। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ব্যবসার ব্যস্ততার মধ্যেও শরীরচর্চার অংশ হিসেবে নিয়মিত দৌড়ান এবং বিভিন্ন দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠা গড়ে তুলেন তিনি। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শরীর ও মন ভালো রাখতে নিয়মিত দৌড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন এই প্রবীণ দৌড়বিদ। তিনি বলেন, সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকতে নিয়মিত দৌড়ানোর বিকল্প নেই।
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর সাড়ে চারটায় রায়পুরা উপজেলা গেট থেকে ম্যারাথন শুরু হয়। এর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল।
জানা যায়, দেশের ৬৪ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা শহর থেকে আসা এক হাজার দৌড়বিদ এতে অংশ নেন। উপজেলা গেট থেকে দৌড় শুরু করে নরসিংদী-রায়পুরা আঞ্চলিক সড়ক ধরে হাসনাবাদ ১০ নম্বর সেতু পর্যন্ত যান তাঁরা। সেখান থেকে ফিরে আবার উপজেলা গেটে এসে দৌড় শেষ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন ও রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ম্যারাথনে ছিল চারটি ক্যাটাগরি। এর মধ্যে ৪২ কিলোমিটার ফুল ম্যারাথনে ২৭০ জন, ২৫ কিলোমিটার দৌড়ে ২০০ জন, ১০ কিলোমিটার দৌড়ে ৪০০ জন এবং শিশুদের এক কিলোমিটার দৌড়ে ১৩০ জন অংশ নেন।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, খবির উদ্দিন খান রায়পুরা ম্যারাথনের প্রাণ। তিনি পরপর তিনটি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন। তাঁর এই বয়সেও দৌড়ানোর উদ্যম অন্য সব দৌড়বিদের জন্য অনুপ্রেরণা।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত দৌড় ও শরীরচর্চা মানুষকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণেও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে এবং শারীরিক চর্চায় আগ্রহী হয়ে উঠতে যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ম্যারাথনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা, সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা-বেলাব সার্কেল) বায়েজিদ বিন মনসুর, ওয়াটসন গ্রুপের চেয়ারম্যান জান্নাতুল হক শাপলা, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান এবং রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির পরিচালক সবুজ শিকদার ও সাদেক হোসেন খোকা।
দৌড় শেষে চারটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ও রানার্সআপদের হাতে মেডেল, সনদপত্র ও প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়।