ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:১৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার
শিক্ষকতা পেশা কখনোই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা একটি সাধারণ চাকরির মতো হতে পারে না। শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবী মানুষটি যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে সেভাবেই ঢেলে সাজাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একইসঙ্গে শিক্ষকদের বেতন ও পেনশনের টাকা পেতে যেন আর অফিসে ঘুরতে না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নিজ নিজ মেধা ও যোগ্যতায় নির্বাচিত ১০২ জন গুণী শিক্ষকের হাতে সম্মাননা তুলে দেন তিনি।
শিক্ষকদের সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি জড়িত।
সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে। স্বাধীনতা বা বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের অন্তত একজন করে শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হয়রানি রোধে কড়া বার্তা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, একজন শিক্ষককে তার বেতন কিংবা অবসরভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে ঘোরার প্রয়োজন নেই। যথানিয়মে যথাসময়ে তার প্রাপ্য অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমেই তার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি।
বর্তমান যুগে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং প্রযুক্তির প্রসারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে আমরা শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে দেখতে চাই না, বরং প্রযুক্তি হবে শিক্ষকের শক্তি। এই লক্ষ্যেই ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচিকে আমরা এগিয়ে নিচ্ছি। একজন শিক্ষক তার ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক ও শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে পারবেন। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।
মুখস্থবিদ্যার চেয়ে ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’ –এমন প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়ে তোলার ওপর জোর দেন তারেক রহমান। তিনি জানান, শিখন কৌশল হিসেবে আনন্দময় শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবার প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে একটি নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্য ক্লাসেও এই বই দেওয়া হবে।
কর্মমুখী শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু কর্মসংস্থানই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, বরং নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে সেই জ্ঞান সমাজের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণের কারণ হতে পারে।
দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। ড্রপআউট হলেও যেন কাউকে বেকার থাকতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। শহর ও গ্রামের শিক্ষায় বৈষম্য দূর করে সব শিক্ষার্থী যেন সমান সুযোগ ও মানসম্মত শিক্ষা পায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।