ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
বর্তমানে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য পাকিস্তান থেকে আমদানি করলেও, সে তুলনায় বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে রপ্তানির পরিমাণ বেশ কম। এই বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিজিএমইএ সভাপতি বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের জুট ইয়ার্ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জীবন রক্ষাকারী ফার্মাসিউটিক্যালস আরও বড় পরিসরে আমদানি করার জন্য পাকিস্তানের হাইকমিশনারের আহ্বান জানান।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এ আহ্বান জানান। পাকিস্তানের হাইকমিশনার বিজিএমইএ সভাপতির এসব প্রস্তাবে গভীর আগ্রহ দেখান এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ মতবিনিময়ে মিলিত হন। এ সময় ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম (অব.) এবং ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল সফর ও বিটুবি মিটিং
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল কর্তৃক সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও অন্যান্য খাতের রপ্তানিকারকদের সমন্বয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করলে সেখানে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক, ব্র্যান্ড, বায়ার এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সাথে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সুনির্দিষ্ট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক বৈঠক (বিটুবি মিটিং) ও ম্যাচ-মেকিং সেশনের আয়োজন করে দেওয়া হবে।
বাজার প্রবেশাধিকার এবং লজিস্টিকস খাতের আধুনিকায়ন
বৈঠকে উভয় দেশের বাজারের সুযোগ এবং বাজার প্রবেশাধিকার বাড়ানোর কৌশলগত উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ এলডিসি দেশ হিসেবে সাফটার আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তন আসবে।
এই উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দুই দেশের বাণিজ্য প্রবাহ অব্যাহত ও সুরক্ষিত রাখতে উভয় দেশ কীভাবে একটি কার্যকর দ্বিপাক্ষিক বিশেষ মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, সে বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে লজিস্টিকস খাতের আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমানে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে সময় বেশি লাগছে, যা কমানো জরুরি। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই লজিস্টিকস ও শিপিংসংক্রান্ত বাধাগুলো দূর করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
মানবসম্পদ উন্নয়ন ও যৌথ উদ্যোগ
এছাড়াও, বৈঠকে টেক্সটাইল, অ্যাপারেল ও ফ্যাশন খাতের দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বিইউএফটি এবং পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ও টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময়, অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান আদান-প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে টেক্সটাইল প্রযুক্তির পারস্পরিক উন্নয়ন ও উৎকর্ষ সাধনে দুই দেশের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও হাইকমিশনার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সুসম্পর্ক এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিকে আগামী দিনগুলোতে আরও অর্থবহ ও ফলপ্রসূ করে তুলবে।