ঢাকা, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

জাকার্তায় দুঃস্বপ্নের রাত, ৯-২ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


জাকার্তায় দুঃস্বপ্নের রাত, ৯-২ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের বিদায়টা হলো চরম হতাশাজনক। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণের প্রবল স্রোতে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে থমাস ডুলির দল।

৯-২ গোলের এই বিশাল ব্যবধানের হারে জামাল-হামজাদের জন্য রাতটা পরিণত হয়েছিল আক্ষরিক অর্থেই এক দুঃস্বপ্নে। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় মালয়েশিয়াকে টপকে টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।

 

ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল একেবারে দিশেহারা। ১১ মিনিটে রোমেনি ওলের কাটব্যাক থেকে মিচেল লি বাকেরের গোলে স্বাগতিকদের গোল-উৎসবের শুরু।

এরপর ২০ মিনিটে লি বাকেরের দৃষ্টিনন্দন এক ব্যাকহিল এবং ৩২ মিনিটে রিজকি রিধোর নিখুঁত শটে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। এর মাঝে গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দু’বার বল ঠেকালেও রক্ষণভাগের ব্যর্থতায় বিপদমুক্ত করতে পারেননি।

চোট পেয়ে ২৭ মিনিটে মিডফিল্ডার শমিত সোমের মাঠ ছাড়াটা পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে, তার জায়গায় নামেন সোহেল রানা।

 

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে কিছুটা স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ শিবিরে। সোহেল রানার লম্বা পাস ধরে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দ্রুতবেগে আক্রমণে ওঠা শুকি ইতোফুসার দারুণ এক ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে জাল খুঁজে নেন শাহরিয়ার ইমন। এবারের আসরে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম গোল। কিন্তু এই স্বস্তি মিলিয়ে যায় মুহূর্তেই। পরের মিনিটেই (৩৭ মি.) নিজের হ্যাটট্রিক এবং ৪২ মিনিটে ব্যক্তিগত চতুর্থ গোলটি করেন লি বাকের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জাস্টিন হুবনারের লক্ষ্যভেদে ৬-১ ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে যায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

দ্বিতীয়ার্ধে একাদশে জোড়া পরিবর্তন আনেন কোচ ডুলি। শুকি ও ইমনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফারহান আলী ওয়াহিদ ও মিনহাজুল করিম স্বাধীন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, চোট নিয়ে স্বাধীনকেও ৭৩ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয়, তার বদলে নামেন শাকিল আহাদ তপু। দ্বিতীয়ার্ধের অনেকটা সময় গোলরক্ষক শ্রাবণের কয়েকটি দারুণ সেভ এবং রোমেনি ওলের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হওয়ায় ব্যবধান বাড়ছিল না।

তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ লুকিয়ে ছিল শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে। গ্রুপের অন্য ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছিল মালয়েশিয়া। তাদের টপকে ফাইনালে যেতে হলে ইন্দোনেশিয়ার প্রয়োজন ছিল আরও তিন গোল! ৯০ মিনিটে এক গোল আদায়ের পর, যোগ করা ৭ মিনিটের ইনজুরি টাইমে অবিশ্বাস্যভাবে আরও দুটি গোল করে অভাবনীয়ভাবে ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্বাগতিকরা।

ইন্দোনেশিয়ার এই গোলবন্যার মাঝেই ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে রাকিবের ক্রস থেকে গোল করে বাংলাদেশের হয়ে ব্যবধান কমান ফারহান। শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের বিশাল হার সঙ্গী হলেও, ইমন ও ফারহানের গোল দুটি বাংলাদেশকে বাঁচিয়েছে ইতিহাস-সর্বোচ্চ হারের পুরনো লজ্জা থেকে। এই দুই গোল না পেলে ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৯৮২ সালে ইরানের বিপক্ষে হজম করা ৯-০ গোলের সেই কালো রেকর্ডে আবারও নাম লেখাতে হতো বাংলাদেশকে।


   আরও সংবাদ