আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার
ভারতের রাজনীতিতে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার দাবি, এমন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জন্য অনুকূল হবে না।
৩০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় রাহুল গান্ধী এ কথা বলেন বলে বৈঠকে উপস্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজতক ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
বৈঠকে রাহুল বিরোধীদের চলমান আন্দোলনের গতি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আজতকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহুল বৈঠকে দাবি করেন, বিরোধীদের আন্দোলন প্রভাব ফেলছে এবং সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে।
তিনি বিরোধী নেতাদের আন্দোলনের গতি ধরে রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আগামী ছয় থেকে আট মাসে এমন কিছু ঘটতে পারে, যা মোদি ও অমিত শাহের জন্য অনুকূল হবে না বলে মন্তব্য করেন।
তবে আগামী ছয় থেকে আট মাসে কী ঘটতে পারে, সে বিষয়ে রাহুল গান্ধী বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। তার এই বক্তব্য মূলত বৈঠক সূত্রের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
বৈঠকে রাহুল আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন, সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কর্মকর্তারাও বিভিন্ন তথ্য তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। বিরোধী নেতাদের কাছেও থাকা তথ্য পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যৌথভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহুল বিরোধী দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে ঐক্যের ওপর জোর দেন। রাজ্যভেদে শরিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকার মতো জাতীয় ইস্যুতে সবাইকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। সূত্রের দাবি, ইভিএম নিয়ে অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে রাহুল দক্ষিণ কলকাতার ঘটনা উল্লেখ করেন। তবে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে দেখানোর মতো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনও বিরোধীদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।
বৈঠক শেষে দেশজুড়ে যৌথ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ইন্ডিয়া জোট। ২ থেকে ৮ অক্টোবর বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র রক্ষার পদযাত্রা’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে মিছিল করবেন।
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও বিরোধী দলগুলো একমত হয়। একই সঙ্গে এসআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনে ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনার দাবিও সামনে আনা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার পক্ষে মত দেন। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে তার বক্তব্যও উঠে এসেছে।
বৈঠকে রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলো অনেক রাজ্যে পরস্পরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে প্রতিটি রাজ্যে একই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে বলে নেতারা আলোচনা করেন। তবে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের ঐক্য ধরে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
রাহুল গান্ধী বলেন, এই লড়াই আরও বড় আকার নিচ্ছে এবং সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষায় বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বৈঠকের পর তিনি বলেন, ইন্ডিয়া জোটের নেতারা সংবিধান রক্ষার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কয়েক মাসের মধ্যে দেশে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈঠকে রাহুল বিরোধীদের ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা, সিবিআই ও ইডির কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য দিচ্ছেন। এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, বিজেপি বিরোধীদের এই আন্দোলন ও ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বিরোধীদের এসআইআর-বিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেছেন এবং ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
বৈঠকে রাহুল গান্ধীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্ডিয়া জোটের নেতা ঘোষণা করা হয়েছে-এমন কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি। বৈঠকে তার সক্রিয় ভূমিকা ও বিরোধীদের আন্দোলনে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও জোটের নেতৃত্বের প্রশ্নটি আলাদা অবস্থানেই রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আজতক, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, এএনআই