ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

হরমুজে সহযোগিতা না করলে ক্ষতিপূরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১২ বার


হরমুজে সহযোগিতা না করলে ক্ষতিপূরণ

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা বা কোনো সমঝোতায় যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রই নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের পথ স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপে যেসব দেশ সহযোগিতা করছে না, তাদের কাছ থেকে পরবর্তী সময়ে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হতে পারে।

 

 

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও পুনরায় স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের পার্থক্য এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

 

ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী।

তবে তেহরানের সঙ্গে কখন এবং কীভাবে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ওয়াশিংটনের হাতেই থাকবে।

 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতাও হয়েছিল। ওই সমঝোতার আওতায় হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছিল।

 

তবে পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল নিয়ে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইরানের অবস্থান ছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। সম্প্রতি ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ নিয়ে একটি সমঝোতা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা এতে নেই বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে।

হরমুজ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি

ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যয় ও সামরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তার জন্য অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের দাবি।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করছে না, অথচ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের সুবিধা নিচ্ছে, যুদ্ধ বা সংঘাতের পর তাদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ চাওয়া হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিয়ে যে কোনো অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতায়ও জটিলতা তৈরি হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের হরমুজ-সংক্রান্ত একটি বৈঠক স্থগিত হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেন ও সৌদি আরবকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

চুক্তির সম্ভাবনা, তবে অনিশ্চয়তাও

ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকলেও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সংঘাত-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো অন্যতম।

এর আগে ট্রাম্প ইরানের কাছে যুদ্ধ ও সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন, যা দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছিল।

ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে আলোচনার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত থাকলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি কত দ্রুত সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার প্রশ্নটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে থাকবে।


   আরও সংবাদ