ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫ বার
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হলে তেজগাঁও টোল প্লাজাসহ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা জানান তিনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম প্রশ্ন রেখে বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে টোল সংগ্রহের ধীরগতি ও কারিগরি ত্রুটির কারণে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিরসনে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না?
জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি একটি পিপিপি প্রকল্প। প্রকল্পটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপ কাওলা থেকে বনানী রেল স্টেশন পর্যন্ত, দ্বিতীয় ধাপ বনানী রেল স্টেশন থেকে মগবাজার রেল ক্রসিং পর্যন্ত এবং তৃতীয় ধাপ মগবাজার রেল ক্রসিং থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুতুবখালী) পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপ ও দ্বিতীয় ধাপের আংশিক, অর্থাৎ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা থেকে এফডিসি ক্রসিং পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পাঁচটি স্থানে টোল প্লাজা রয়েছে। বিমানবন্দর, কুড়িল, বনানী-১ (বনানী থেকে বিমানবন্দরগামী যানবাহনের জন্য), বনানী-২ (বনানী থেকে ফার্মগেট ও হাতিরঝিলগামী যানবাহনের জন্য), মহাখালী ও তেজগাঁও। বর্তমানে চালু করা অংশে পাঁচটি টোল প্লাজার মধ্যে বিমানবন্দর ও তেজগাঁও টোল প্লাজায় যানবাহনের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি।
‘এই চাপের মূল কারণ হলো বর্তমানে কেবল তেজগাঁও টোল প্লাজা ব্যবহার করে উত্তর দিকে অর্থাৎ বনানী, কুড়িল ও বিমানবন্দরের দিকে যাওয়া যায়। কিন্তু এক্সপ্রেসওয়ের মূল ডিজাইনে তেজগাঁওয়ের পাশাপাশি সোনারগাঁও গোল চত্বর থেকে আরও একটি র্যাম্পের মাধ্যমে উত্তর দিকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার নির্মাণকাজ বর্তমানে চলছে।’
শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে ওই র্যাম্প, টোল প্লাজা এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হলে তেজগাঁও টোল প্লাজাসহ এক্সপ্রেসওয়ের যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চালু অংশে টোল আদায় কার্যক্রম আরও দ্রুত ও বেগবান করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে On Board Unit (OBU)-এর মাধ্যমে Electronic Toll Collection (ETC) কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় বিমানবন্দরে ছয়টি টোল লেনের মধ্যে দুটি লেনে, কুড়িলে ছয়টি লেনের মধ্যে দুটি লেনে, বনানী-১ এ পাঁচটি লেনের মধ্যে একটি লেনে এবং তেজগাঁও টোল প্লাজায় চারটি লেনের মধ্যে দুটি লেনে, অর্থাৎ সর্বমোট সাতটি লেনে OBU ভিত্তিক ETC ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এই সিস্টেমে ETC-তে রেজিস্ট্রেশন করা গাড়ির সংখ্যা ১,৮৭৭টি।