ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করতে ইরানকে পাকিস্তানের বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫ বার


হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করতে ইরানকে পাকিস্তানের বার্তা

চলমান সংকট যাতে আরও মারাত্মক রূপ ধারণ না করে, সেজন্য ইয়েমেনের হুতিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরানকে সৌদি আরবের একটি সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার সৌদি আরবের ওপর অন্যতম বড় হামলাটি চালানো হয়। হুতি বিদ্রোহীরা ওইদিন খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং কাছাকাছি শহরগুলোর তেল অবকাঠামোতে হামলা চালায়।

এতে ৭৩ জন আহত হন।

 

হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বুধবার জানিয়েছেন, গত ১২ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি।

এই হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং এর জন্য শাস্তি পেতে হবে।

 

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলা যুদ্ধের দ্বিতীয় এই ক্ষেত্রটি এমন এক সময়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি জাহাজ হামলায় জড়িয়েছে।

 

সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকার কারণে তেহরানকে দেওয়া দেশটির সতর্কবার্তাটিকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, যেকোনো সামরিক ভূমিকা কেবল সৌদি ভূখণ্ড রক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সৌদি আরবে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যকর করে তুলতে পারে।

পাকিস্তানি টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, ‘একটি দেশের ওপর আগ্রাসন মানেই তা তিন দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, এখানে কোনো দ্ব্যর্থতা বা সন্দেহ নেই... সৌদি আরবে যেকোনো রকমের আগ্রাসন বা সংঘাত ছড়িয়ে পড়া নিশ্চিতভাবেই এই চুক্তিকে কার্যকর করে তুলবে।

সৌদি আরব ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ রাখার বছরের পর বছর ধরে চলা প্রচেষ্টার পর পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা হুতি হামলার গুরুতর পরিস্থিতিকে সামনে এনেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেহরানের কাছে বার্তাটি স্পষ্ট– হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করুন, নয়ত প্রক্সি সংঘাতকে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে পরিণত করার ঝুঁকি থাকবে।

একজন সিনিয়র আঞ্চলিক কূটনীতিক জানিয়েছেন, পাকিস্তান গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এবং সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলা বন্ধ করতে নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করার জন্য তেহরানকে তাগিদ দিয়েছে।

একজন সিনিয়র ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তান মঙ্গলবার তেহরানের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এবং তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ইরান হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করে না’।

তবে দুটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তেহরান হুতিদের সৌদি আরবের ওপর হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তারা জানিয়েছে, তেহরান অতিরিক্ত তহবিল ও অস্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং আইআরজিসির বেশ কয়েকজন কমান্ডার হামলা সমন্বয় করতে সাহায্য করার জন্য ইয়েমেন ভ্রমণ করেছিলেন।

ওই আঞ্চলিক কূটনীতিক বলেছেন, সংঘাত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই ইসলামাবাদ হুতিদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছে, যেখানে রিয়াদ পাকিস্তানকে নিজেদের রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ওই কূটনীতিক বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের একটি চুক্তি রয়েছে, তবে আমি আশা করি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে না যেখানে পাকিস্তানকে বাস্তব অর্থে মাঠে নামতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তারা একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করবে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানি সূত্রটি জানিয়েছে, প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করতে সৌদি কর্মকর্তারা রিয়াদে সিনিয়র পাকিস্তানি ও তুর্কি সামরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, তিন দেশ এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে তাদের সৈন্যরা ইয়েমেনে প্রবেশ করবে না এবং যেকোনো প্রতিক্রিয়া সৌদি ভূখণ্ড থেকেই পরিচালনা করা হবে।

দ্বিতীয় একটি পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিশোধমূলক হামলায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রিয়াদের সঙ্গে তাদের সামরিক চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক এবং শুধু সৌদি ভূখণ্ড রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সূত্রটি জানিয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনী সৌদি আরবের মধ্যে সামরিক, প্রযুক্তিগত, ভূগর্ভস্থ বা আকাশপথে সহায়তা প্রদান করতে পারে, তবে তারা বিদেশি মাটিতে কোনো যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেবে না।

ওই আঞ্চলিক কূটনীতিক বলেছেন, ইরান ও হুতিদের এই চাপ প্রয়োগের কৌশলটি তেহরানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে ওয়াশিংটনকে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে তেহরান তাদের সম্পর্ক ছিন্ন না করে বরং সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

সূত্র: রয়টার্স


   আরও সংবাদ