ঢাকা, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অবৈধ মৎস্য আড়ত উচ্ছেদে প্রশাসনের গড়িমসি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৭ বার


অবৈধ মৎস্য আড়ত উচ্ছেদে প্রশাসনের গড়িমসি

সিরাজগঞ্জ: নানা অভিযোগের পরও অবৈধ মৎস্য আড়ত উচ্ছেদে গড়িমসি করায় সিরাজগঞ্জ জেলা ও রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। 

 

 

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার পাঁচ গ্রামের ১২১ জনের স্বাক্ষর করা একটি লিখিত অভিযোগ প্রধামন্ত্রী বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য জাকারিয়া হোসেন।

 

 

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রী বরাবর পৃথক দুটি অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।

 

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাসেল, আব্দুল মোন্নাফ, মাহবুব, সুলতান, ইকবাল মণ্ডল, লঙ্কেশ্বর হালদার, আব্দুল হান্নান, হাফিজুল ইসলাম, সাধন হালদার, কালা হালদার, শোভন ও নুরুসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা এ আড়তটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আড়তটির মাধ্যমে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেন তারা।

প্রতিদিন দুই কোটি টাকার লেনদেন হলেও সরকারি পেরিফেরিভুক্ত না হওয়ায় এক টাকাও রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। তবে আড়তদার ও যানবাহন থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা চাঁদা নিচ্ছে এ চক্রটি।

 

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জনবহুল এলাকায় এ আড়ত বসানোর ফলে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিলীন হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাট। 

এ আড়তটি উচ্ছেদে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কুতুবের চর অবৈধ আড়তের কারণে ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাটের ইজারাদার এক কোটি ২৭ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া আড়ত পরিচালনাকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। 


অভিযোগকারী ইসমাইল হোসেন, আক্তারুজ্জামান, আব্দুর রশিদ ও জাকারিয়া হোসেন বলেন, সলঙ্গার হাজারও মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক ও সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের পাশে তিন বছর ধরে সরকারি পেরিফেরি ছাড়া অবৈধভাবে কুতুবের চর মৎস্য আড়ত পরিচালিত হচ্ছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী এ অবৈধ আড়ত উচ্ছেদে জেলা প্রশাসন বরাবর একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। 

তাদের দাবি, প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে আড়তটি পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছেন। 

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানলাম। 

তবে উচ্ছেদ নয়, উল্টো পেরিফেরি অনুমোদনের জন্য কাগজপত্র রেডি করে রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা পেরিফেরির জন্য রেডি করে রেখেছি, নকশা বানিয়ে রেখেছি। হাইকোর্টে মামলা থাকার কারণে পেরিফেরি করতে পারছি না। ওই আড়তটির অধিকাংশ জমি পাবলিকের। তারা ৩০ শতাংশ জমি পেরিফেরির জন্য সরকারকে লিখে দিয়েছেন। কিন্তু পাশেই আরেকটি পেরিফেরিভুক্ত আড়তের পক্ষ থেকে রিট করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা বসে নেই, এটা নিয়ে কাজ করছি। গত সপ্তাহে একটা মিটিং করে রিটটাকে কীভাবে খারিজ করা যায়, সেটার জন্য আলাদাভাবে আইনজীবীকে  দায়িত্ব দিয়েছি। 


   আরও সংবাদ