ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ অগাস্ট, ২০২৬ ১৫:৪৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫১ বার
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম তন্তু বা নন-কটন পোশাকের বাজার যখন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, ঠিক সে সময়ে বিপরীত ধারায় রয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। বৈশ্বিক পোশাক বাজারে যেখানে নন-কটন বা কৃত্রিম সুতার পোশাকের আধিপত্য, সেখানে বাংলাদেশ কটন বা তুলাজাত পণ্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশই কৃত্রিম ও মিশ্র তন্তুর দখলে, তুলার অবদান মাত্র ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু আন্তর্জাতিক এই ধারার ঠিক উল্টো চিত্রে রয়েছে বাংলাদেশ।
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের কটন নির্ভরতা প্রায় ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, যার বিপরীতে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকের অবদান মাত্র ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রতিযোগী দেশগুলোর কৌশলগত অবস্থান
বিশ্ববাজারের চাহিদার গতিপ্রকৃতি বুঝে প্রতিযোগী দেশগুলো আগেই তাদের উৎপাদন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
এর মধ্যে পোশাক রপ্তানির বৈশ্বিক পরাশক্তি চীন তাদের মোট রপ্তানির ৭০ দশমিক ৬ শতাংশই কৃত্রিম তন্তুতে রূপান্তর করেছে; কটনজাত পণ্য থেকে তাদের আয় মাত্র ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিযোগী ভিয়েতনাম তাদের রপ্তানির ৬৫ দশমিক ২ শতাংশই নন-কটন কাপড়ে রূপান্তর করে উচ্চমূল্যের স্পোর্টসওয়্যার, অ্যাক্টিভওয়্যার ও উইন্টার ফ্যাশন বাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে।
অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে কম্বোডিয়া ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়া ৫৯ দশমিক ৯ শতাংশ কৃত্রিম তন্তুর পোশাক রপ্তানি করে বৈশ্বিক গড়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। এই তালিকায় কেবল ভারত (৭৪ শতাংশ) ও পাকিস্তান (৮৫.১ শতাংশ) উচ্চ তুলা-নির্ভরতায় বাংলাদেশের কাছাকাছি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের পর জিএসপি সুবিধা বা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে আসবে। এমন পরিস্থিতিতে কেবল তুলাভিত্তিক সস্তা পণ্যের ওপর নির্ভর করে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে বলে সতর্ক করছেন বস্ত্র খাত বিশেষজ্ঞরা।
তবে তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক পরিবর্তনে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে—এমনটি পুরোপুরি মনে করেন না এ খাতের উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং 'বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস' (বিএভি)-এর প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল জানান, বাংলাদেশ এখনো কটনভিত্তিক তৈরি পোশাক খাতে ভালো করছে, তবে এখন কটন ও নন-কটন উভয় দিকেই সমান দৃষ্টি দেওয়াই সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্পূর্ণ উল্টো ধারায় হাঁটছে—সরাসরি এভাবে বলা সমীচীন হবে না। কটনভিত্তিক পোশাকের ওপর ভর করেই আমরা প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে সক্ষম হচ্ছি। তবে বৈশ্বিক চাহিদার সাথে তাল মেলাতে না পারলে ভবিষ্যতে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এতদিন মূলত বড় আকারের অর্ডার এবং সাশ্রয়ী মূল্যের পোশাক তৈরিতে মনোযোগী থাকায় নন-কটন বা কারিগরি পোশাকের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি সেভাবে গড়ে ওঠেনি।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিনি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের রূপান্তর, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থায়ন সহজীকরণ এবং সময়োপযোগী নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দেন। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে তার শীর্ষ অ
বস্থান ধরে রাখতে পারবে।