ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:২১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার
লর্ডস থেকে ডারউইন—মাঝে পেরিয়ে গেছে ২১ বছর। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হয়েছিল মুশফিকুর রহিমের টেস্টযাত্রা।
এরপর একে একে পেরিয়েছেন কত মাইলফলক, গড়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিজের আলাদা জায়গা। সবচেয়ে বেশি টেস্ট রান, সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি, শততম টেস্টে সেঞ্চুরি—অর্জনের খাতায় যোগ হয়েছে অনেক কিছুই।
শুধু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতাটা ছিল না। সেই অপূর্ণতাও এবার পূরণ হলো ডারউইনে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ১০৩তম টেস্টে নেমে প্রথমবারের মতো দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামলেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
মুশফিকের টেস্টযাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালের ২৬ মে লর্ডসে।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১৯ রান। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ২৬১ রানে। ফলটা হতাশার হলেও লর্ডসের সেই ম্যাচ থেকেই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারের পথচলা।
এরপর দেখতে দেখতে দুই দশকের বেশি সময় কেটে গেছে। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছেন মুশফিক। দলের অধিনায়ক হয়েছেন, উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়েছেন, পরে ব্যাটিংয়েই দিয়েছেন পুরো মনোযোগ। নিজের ব্যাটে গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে গড়েছেন বিশেষ কীর্তি। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার পাশাপাশি শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা বিরল ব্যাটারদের তালিকাতেও জায়গা করে নেন তিনি।
ক্যারিয়ারের ১০২ টেস্ট শেষে মুশফিকের রান ছিল ৬ হাজার ৮০৬। ১৪টি সেঞ্চুরি ও ২৯টি ফিফটির পাশাপাশি তার সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ২১৯ রান। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান ও সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডও তার দখলে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নামার সময় তাই তার সামনে আরও একটি বড় মাইলফলক।
আর মাত্র ১৯৪ রান করতে পারলেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ৭ হাজার রানের ক্লাবে ঢুকবেন মুশফিক। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজেই সেই মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ তার সামনে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যক্তিগত অর্জনের পর দেশের হয়ে নতুন এই ইতিহাস গড়ার হাতছানিও এখন তার সামনে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও মুশফিকের স্মৃতি কম নয়। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে এসে দুটি টেস্ট খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী ছিলেন মুশফিক। তবে এতদিন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়নি তার। এবার সেই অভিজ্ঞতাও অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’।
মুশফিকের এই অপেক্ষাটা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে ‘পঞ্চপাণ্ডব’দের হিসাব মেলালে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজার। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর কেটে গেলেও পঞ্চপাণ্ডবের আর কেউ সেখানে টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহর সেই অপেক্ষা শেষ হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক টেস্ট থেকে সরে গেছেন তারা। তাই পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে মাশরাফির পর মুশফিকই পেলেন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এত কিছু অর্জনের পরও যে অভিজ্ঞতাটা এতদিন অধরাই ছিল, ডারউইনে এসে সেটিও পূরণ হলো তার।
১৮ বছর বয়সে মুশফিক লর্ডসে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, ২১ বছর পর সেই পথই তাকে নিয়ে এসেছে ডারউইনে। ক্যারিয়ারের এতটা পথ পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই দীর্ঘদিনের অপূর্ণতা কেটেছে। এখন তার সামনে ‘অভিষেকটা’ স্মরণীয় করার পালা!