ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১৩ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:২২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার


ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের নতুন একটি অর্থপ্রদানের সেবা নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে।

মামলাকারীদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ও আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে দেখার সুযোগ দেওয়া অসাংবিধানিক।

এতে সরকারি তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ও অর্থশালী গ্রাহকদের মধ্যে অসমতা তৈরি হচ্ছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতে মামলাটি করা হয়।

সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট এবং অলাভজনক সংগঠন ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন যৌথভাবে মামলাটি করেছে। তারা বিতর্কিত এই ব্যবস্থা বন্ধ করার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

 

মামলার কেন্দ্রে রয়েছে ‘ট্রুথ এপিআই’। ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ গত জুলাইয়ে এই সেবার ঘোষণা দেয়।

এর মাধ্যমে অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকরা ট্রাম্পসহ নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের এমন পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে পাওয়ার সুযোগ পাবেন, যেগুলো আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। মামলায় বলা হয়েছে, এ সেবার জন্য গ্রাহকদের মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দিতে হতে পারে। খবর এএফপির

 

বাদীপক্ষের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে সরকারি নীতি, সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করেন। এসব পোস্টের কোনো কোনোটি প্রকাশের পর আর্থিক বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের আগে অর্থের বিনিময়ে এসব তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকলে ধনী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্তসংক্রান্ত তথ্য যদি বাণিজ্যিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং অর্থ দিতে সক্ষম ব্যক্তিদের আগে সরবরাহ করা হয়, তাহলে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাদীপক্ষ এই ব্যবস্থাকে অন্যায্য, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছে।

কেন বিতর্কে ‘ট্রুথ এপিআই’?

আর্থিক বাজারে তথ্য পাওয়ার সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রেসিডেন্টের নীতি ঘোষণা বা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এমন তথ্য সাধারণ মানুষের কয়েক সেকেন্ড আগে পেলেও কোনো কোনো বিনিয়োগকারী বা প্রতিষ্ঠান তা কাজে লাগিয়ে আর্থিক সুবিধা নিতে পারে। এ কারণেই ট্রুথ এপিআই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মামলাকারীরা শুধু অর্থের বিনিময়ে আগাম পোস্ট পাওয়ার বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন তোলেনি। প্রেসিডেন্টের সরকারি যোগাযোগ সবার জন্য সমানভাবে থাকা উচিত কি না এবং এসব বক্তব্য ভবিষ্যতের জন্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, সেসব বিষয়ও মামলায় উত্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প মিডিয়া এই ধরনের তথ্য সরবরাহকারী প্রযুক্তি আর্থিক খাতে নতুন কিছু নয় বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও সমালোচনা করেছে।

এখন আদালতকে নির্ধারণ করতে হবে, একজন ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি যোগাযোগ সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশের আগে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আইন ও সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।


   আরও সংবাদ